মহিপুর সড়ক সংযোগহীন কালভার্ট ভোগান্তি চরমে | Daily AjKaler Kontho

মহিপুর সড়ক সংযোগহীন কালভার্ট ভোগান্তি চরমে


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : জুন ১৩, ২০২৫, ২:০৭ অপরাহ্ন
মহিপুর সড়ক সংযোগহীন কালভার্ট ভোগান্তি চরমে

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর মহিপুর সদর ইউনিয়নের ইউসুফপুর গ্রামে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ২৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। তবে নির্মাণের দীর্ঘদিন পরও এখনো নির্মিত হয়নি কালভার্টটির সংযোগ সড়ক। এতে করে স্থানীয়দের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কালভার্টের দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় ইউসুফপুরসহ আশপাশের গ্রামের সহস্রাধিক মানুষ প্রতিদিনই কাদা-পানির ভেতর দিয়ে বাঁধ বেয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে নারী, শিশু, বৃদ্ধ এবং স্কুল-মাদরাসাগামী শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ আরও বেশি।

বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগের মাত্রা আরও বাড়ে। জোয়ারের সময় বাঁধের উপর পানি উঠে গেলে চলাচলের একমাত্র পথটিও বন্ধ হয়ে যায়।

৭০ বছর বয়সী স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল আজিজ সিকদার বলেন, “এই বয়সে এমন দুর্গম পথে চলাচল করা খুবই কষ্টকর। জোয়ারের সময় তো বের হওয়াই দায়। অনেকেই কাদায় পিছলে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন।”

ইউসুফপুর দাখিল মাদরাসার শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার বলেন, “প্রতিদিন এই কালভার্ট পার হয়ে মাদরাসায় যেতে হয়। কাদায় পিছলে পড়ে যাওয়ার ভয়ে প্রায়ই যেতে পারি না। ক্লাসও মিস করতে হয়।”

স্থানীয় গৃহবধূ আছিয়া বেগম বলেন, “বাচ্চাদের নিয়ে প্রতিদিন কাঁদা আর পানির মধ্যে দিয়ে যাই। খুব ভয় লাগে, কখন পা পিছলে পড়ে যাই।”

অলি আকন, মোজাম্মেল হক, মনিরুল ইসলাম ও নুরজাহান বেগমসহ একাধিক ভুক্তভোগী জানান, সংযোগ সড়ক না থাকায় রোগী পরিবহনেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী বা জরুরি রোগীদের নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছাতে হয় চরম ঝুঁকি নিয়ে।

স্থানীয় রাজনৈতিক ও সমাজকর্মী তোফাজ্জেল হোসাইন সিপাহী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি অর্থে একটি কালভার্ট নির্মাণ করে তা জনগণের কাজে লাগছে না শুধু মাত্র সংযোগ সড়ক না থাকায়। এটি প্রশাসনের চরম অবহেলার উদাহরণ।”

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে ভোগান্তির অবসান ঘটানো হোক।

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মোকসেদুল আলম বলেন, ‘কালভার্টটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীনে ২৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। সংযোগ সড়কের কাজ দ্রুত শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। শীঘ্রই এলাকাবাসী এর সুফল পাবে।’