ভূমি অফিসে দুর্নীতির ঘেরাটোপ: অনলাইনে ৪০ টাকা, অফিসে গিয়ে ১০ হাজার | Daily AjKaler Kontho

ভূমি অফিসে দুর্নীতির ঘেরাটোপ: অনলাইনে ৪০ টাকা, অফিসে গিয়ে ১০ হাজার


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : জুন ২, ২০২৫, ৪:১১ অপরাহ্ন
ভূমি অফিসে দুর্নীতির ঘেরাটোপ: অনলাইনে ৪০ টাকা, অফিসে গিয়ে ১০ হাজার

মোঃ বুলবুল ইসলাম, খানসামা ও বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : “দিনাজ পুরের খানসামা উপজেলার ১নং আলোকঝাড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দুর্নীতি ও অনিয়মের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।

অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন করের পরিমাণ কম দেখালেও সরাসরি অফিসে গেলে কয়েকগুণ বেশি দাবি করা হয়। ঘুষের বিনিময়ে কর কমিয়ে দেওয়া হয়, না দিলে হয়রানির মুখে পড়তে হয় সাধারণ ভূমি মালিকদের। ছদ্মবেশে এক সংবাদকর্মীর অনুসন্ধানে এসব অনিয়মের প্রমাণ মেলে।

গত বুধবার (২৮ মে ) বাসুলী মৌজার ১৮৬৭ নম্বর খতিয়ান ও ১৮৭০ নম্বর হোল্ডিং অনলাইনে যাচাই করে দেখা যায়, ৪ বছরের বকেয়া কর মাত্র ৪০ টাকা।

পরদিন, বৃহস্পতিবার (২৯ মে) সকালে সরাসরি আলোকঝাড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গেলে ভূমি উন্নয়ন কর দেখানো হয় ১০,১৩৬ টাকা।

একপর্যায়ে ছদ্মবেশে থাকা সংবাদকর্মী সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. আবু বক্কর সিদ্দিক-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আলোচনার ভিত্তিতে ৮ হাজার টাকার ঘুষ চুক্তি হয়, যার পর কর কমিয়ে আনা হয় ৩,২৬৪ টাকায়। এই লেনদেনের সময় ও তথ্য সংবাদকর্মীর কাছে প্রমাণ হিসেবে রয়েছে।

বাসুলী মৌজার ১৩৭৭ নম্বর খতিয়ান ও ১৪৫৯ নম্বর হোল্ডিং এর মালিক ইয়াকুব আলী, মিজানুর রহমান, হাবিবুর রহমানসহ কয়েকজন অভিযোগ করেন—তারা ২০২৩-২৪ অর্থবছরের খাজনা পরিশোধ করলেও অনলাইনে দেখানো হয় বকেয়া ৫০ টাকা।

অফিসে গেলে জানানো হয়, তাদের সর্বশেষ খাজনা পরিশোধ ছিল ২০১৬-১৭ অর্থবছর, ফলে ৮ বছরের বকেয়া হিসেবে দাবি করা হয় ২,০০৮ টাকা। এ নিয়ে সহকারী ভূমি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়।

ভূমি মালিক সুজন ইসলাম বলেন, আমি অনলাইনে কর দেখে অফিসে যাই, যেখানে ৬০ টাকা দেখাচ্ছিল। অফিসে গিয়ে শুনি ৩ হাজার টাকা না দিলে হবে না। অবশেষে বাধ্য হয়ে টাকা দিই।

তিনি আরও জানান, আমাকে খাজনার দুইটি চেক দেওয়া হয়েছে ১৫০ টাকা করে মোট ৩০০ টাকার, অথচ আমার কাছ থেকে ২ হাজার করে মোট ৪ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। অফিসের লোকজন বলেন, টাকা না দিলে ফাইল আটকে থাকবে।

অভিযুক্ত সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. আবু বক্কর সিদ্দিক-এর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।
তিনি বলেন, অনলাইন তথ্য সবসময় সঠিক হয় না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অফিস থেকে যাচাই করতে হয়। ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

তবে স্থানীয়দের দাবি, এটি কোনও সিস্টেম ত্রুটি নয়, বরং সুপরিকল্পিত দুর্নীতি। ঘুষ না দিলে খাজনা চেক করা, খতিয়ান ক্লিয়ার করা বা কোনো কাজ সম্পন্ন হয় না। অনলাইন ও অফিসের তথ্য যেন এক হয় ভূমি অফিসে ঘুষ বাণিজ্য বন্ধে দ্রুত তদন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।

খানসামা উপজেলার আলোকঝাড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দুর্নীতির চিত্র যেমন ভয়াবহ, তেমনি সুপরিকল্পিত। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে পাল্টে, সাধারণ মানুষকে প্রতারণা ও ঘুষের ফাঁদে ফেলা হচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, এখনই না থামালে এই দুর্নীতি আরও গভীরে যাবে।

খানসামা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. কামরুজ্জামান সরকার বলেন,বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। কেউ সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ দিলে আমরা তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেব। ভূমি অফিসে হয়রানি বন্ধে আমরা বদ্ধপরিকর।