মো:সাফায়েত খান, ধামরাই(ঢাকা) প্রতিনিধি : ধামরাই পৌরসভার ৫, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সড়কগুলো জলাবদ্ধতার জন্য ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা, এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এই সব এলাকার বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে কোনো সংস্কার না হওয়ায় চরম বিপদে আছেন এখানকার বাসিন্দারা।
সংশ্লিষ্ট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশ দিয়ে থানা স্ট্যান্ড থেকে বাইপাস হয়ে চন্দ্রাইল, তালতলা, ছয়বাড়িয়া পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার সড়কজুড়ে অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় রাস্তাটি দেখলে মনে হয় যেন কোনো খাল বইছে। একই চিত্র ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কালিয়াগার, বাগনগর ও মডেল টাউন এলাকায়ও। এসব এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা সহ শত শত গার্মেন্টস শ্রমিক ভাড়া বাসায় থাকেন। সামান্য বৃষ্টিতেই তাদের প্রতিদিন কাজের উদ্দেশে পায়ে হেঁটে ময়লা পানিতে কাপড় ভিজিয়ে যাতায়াত করতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম রিপন, যিনি একমি কোম্পানিতে দীর্ঘ ১৫ বছর চাকরি করছেন তিনি বলেন, এতদিনেও এ রাস্তার কোনো উন্নয়ন হয়নি। বর্ষা এলেই হাঁটুপানি রাস্তায়, ড্রেন উপচে ময়লা এসে পড়ে বাড়ির সামনে।
পৌর বিএনপির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সুমন বলেন, শুনেছি এই রাস্তার জন্য একাধিকবার বাজেট এসেছে, কিন্তু কাজ হয়নি। ফ্যাক্টরি, স্কুল-কলেজের ছাত্র ছাত্রী ও গার্মেন্টস কর্মীরা প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। পৌরসভার রাস্তার পানি নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা হয় নাই। সাবেক মেয়র তাহলে এতদিন কী করলেন?ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও রাস্তা সংস্কারের অভাবে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এই বেহাল সড়কে পাঁয়ে হেঁটে চলা যায় না। এ বিষয়ে পৌরসভার দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। সামান্য বৃষ্টি হলেই আমাদের রাস্তায় ও বাড়িতে পানি উঠে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে; প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।
পৌরবাসীর দাবি, দ্রুত সড়ক সংস্কার ও কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করে চলাচলের উপযোগী পরিবেশ গড়ে তোলা হোক।
এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মামনুন আহমেদ অনিক জানান, “জুলাই আন্দোলনের পর আমি প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছি। সড়ক সংস্কারে টেন্ডার হওয়ার পর কিছু ঠিকাদার কাজ শুরু করে পালিয়ে যায়। তাদের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। শিগগিরই সংস্কারকাজ শুরু হবে। পাশাপাশি কিছু এলাকায় নতুন ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে, পর্যায়ক্রমে অন্যান্য এলাকাতেও করা হবে। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল হলে জলাবদ্ধতা অনেকটাই কমে যাবে।