Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ৫:৩০ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ মে ২৮, ২০২৫ , ৫:১৪ অপরাহ্ণ

বাকেরগঞ্জের ঐতিহাসিক মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত নাটু বাবুর জমিদার বাড়ি সংস্কারের দাবি!

লেখকঃ আজকালের কণ্ঠ

খান মেহেদী : বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে ঝোপঝার আর লতাপাতায় ঘিরে আছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত নাটু বাবুর জমিদার বাড়ি। ছম ছমে সুনসান নীরবতায় বাড়িটি দেখে মনে হবে ভুতুড়ে বাড়ি। ১৬ শ’ শতকের শেষের দিকে এ জমিদার বাড়িটি প্রতিষ্ঠা করেন প্রসন্ন কুমার রায় চৌধুরী। ১৯ শতকের গোড়ার দিক পর্যন্ত জমিদারীর ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন তাদের পঞ্চম বংশধর কুমোদ বন্ধু রায় চৌধুরী (নাটু বাবু)।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পর বরিশাল অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধাদের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছিল জমিদার বাড়িটি।নাটু বাবু একজন জমিদার পরিবারের সন্তান হয়েও তিনি নিজ গ্রাম শ্যামপুরে মুক্তিযুদ্ধের জন্য সংগঠিত করতে থাকেন মুক্তিযোদ্ধাদের। জমিদার পরিবারের প্রতিষ্ঠিত শ্যামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ও জমিদার বাড়িতেই নাটু বাবু গড়ে তোলেন মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প।

মুক্তিযুদ্ধের অসামান্য অবদান রাখা নাটু বাবু বেশিদিন বাঁচতে পারেননি। স্বাধীনতার মাত্র দুই বছরের মধ্যে ১৯৭৩ সালে তাকে হত্যা করে স্বাধীনতা বিরোধীরা। এরপর থেকে হারিয়ে যায় জমিদার বাড়ির সোনালি ইতিহাস। আজন্ম বিপ্লবী জমিদার নাটু বাবু ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামের অকুতোভয় সৈনিক।

যুদ্ধকালীন সময়ে ১৫ নভেম্বর স্থানীয় রাজাকারদের সঙ্গে নিয়ে ওই বাড়িটিতে আক্রমণ চালায় পাকবাহিনী। সেইদিন সম্মুখ যুদ্ধে তিনজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। আর মুক্তিবাহিনীর আক্রমণে ২১ পাকসেনা নিহত হয়। ওই যুদ্ধে ৩৫ নিরীহ গ্রামবাসীকে নির্বিচারে হত্যা করেছিল পাকবাহিনীর সদস্যরা।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত জমিদার বাড়িটি তিনশত বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত লাগেনি সংস্কারের ছোঁয়া। ইট, সুরকি আর পোড়া মাটির কারুকার্যে ঘেরা জমিদার বাড়িটি আজ অযত্ন আর অবহেলায় ভুতুড়ে রূপ নিয়ে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

প্রিন্ট করুন