ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : শুধু বাস্তবতার আলোকে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় দিনে দিনে ঝিনাইদহের নদীগুলো চারণ ভূমিতে পরিণত হচ্ছে। অপরদিকে দীর্ঘদিন খনন অভাবে নদীগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্ষতি হচ্ছে প্রকৃতির জীববৈচিত্র্য। নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় নদীর তীরবর্তী লক্ষ লক্ষ মানুষের দৈনন্দিন পানির চাহিদা ও জেলেরা মৎস্য আহরনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে।
দিনে দিনে নদীগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপদে পড়েছে নদী তীরবর্তী মানুষগুলো, জেলেরা তাদের আদি পেশা পরিবর্তন করে অন্য পেশা বেচে নিতে বাধ্য হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষকরা অধিক মাত্রায় গভীর নলকূপের পানি সেচ কাজে ব্যবহার করাই শুকনো মৌসুমে পানির লেয়ার অনেক নিচে নেমে যায় ফলে খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে শুধু ঝিনাইদহ জেলায় প্রতিবছর ইট প্রস্তুত কারখানা গুলোতে আনুমানিক ১৫ থেকে ১৬ কোটি সিএফটি মাটি ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি কাঁচা মাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেটা আইনসিদ্ধ না হলেও এক শ্রেণীর স্থানীয় অসৎ প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সাংবাদিক, পুলিশ, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা ব্যক্তিবর্গের জোকসাজসে এই মাটির ব্যবসাটা চলে আসছে। ইট প্রস্তুতকারী মালিকরাও অনেকটা নিরুপায় হয়ে তাদের চাহিদা পূরণে অনেক সময় এদের কাছ থেকে মাটি ক্রয় করতে বাধ্য হয়।
স্থানীয় প্রশাসন যদি বাস্তবতার নিরিখে বেসরকারি খাতে টেন্ডারের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিমাপের ভিত্তিতে নবগঙ্গা, চিত্রা সহ বিভিন্ন বন্ধ হয়ে যাওয়া নদীগুলো খননের অনুমোদন এবং উক্ত খননকৃত মাটি ইট প্রস্তুতের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহারের অনুমোদন দিত তাহলে একদিকে যেমন নদী তার হারানো নাব্যতা ফিরে পেতো অপরদিকে সরকার পেতো মোটা অংকের রাজস্ব। রক্ষা পেত মাটি খেকোদের হাত থেকে হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি।