Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ৪:৪৫ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ মে ১৭, ২০২৫ , ৩:৪৩ অপরাহ্ণ

কুয়াকাটায় মুজিব শতবর্ষের আশ্রয়ণ প্রকল্পে অনিয়ম : বঞ্চিত প্রকৃত গৃহহীনরা

লেখকঃ আজকালের কণ্ঠ

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা : সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে কুয়াকাটাসহ উপকূলীয় অঞ্চলে গৃহহীন ও ভূমিহীনদের পুনর্বাসনের জন্য ঘর বরাদ্দ দেওয়া হলেও কুয়াকাটায় প্রকৃত সুবিধাভোগীদের অনেকেই বঞ্চিত হয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে প্রকল্পে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার ফলে প্রকৃত গৃহহীনরা আশ্রয় না পেয়ে হয়েছেন বঞ্চিত।

অনিয়ম ও তালাবদ্ধ ঘর :
কুয়াকাটার নয়াপাড়া আবাসন প্রকল্পের ৬৪টি ঘরের মধ্যে আটটি ঘর শুরু থেকেই তালাবদ্ধ ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন কিছু ঘরে লোক উঠালেও সেখানেও অনিয়ম ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। ৬৪ নম্বর ঘরের প্রকৃত মালিক সুজন বেপারী, তার বরাদ্দকৃত ঘরে বসবাস করছিলেন সালমা নামের এক নারী, যার জাতীয় পরিচয়পত্র নেই এবং তিনি এলাকার বাসিন্দাও নন। পরে জানা যায়, তার স্বামী মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি ফলে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

ঘর বিক্রি ও ভাড়ায় দেওয়া :
৫৩ নম্বর ঘরের মালিক শহিদ ফকির নিজের ঘর বিক্রি করে নিজ এলাকায় বসবাস করছেন। ৫২, ৪১ ও ৩৫ নম্বর ঘরের বরাদ্দপ্রাপ্তরাও ঘর বিক্রি করে অন্যদের কাছে হস্তান্তর করেছেন। এমনকি কিছু ঘর ভাড়া দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

জটিলতা ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ :
৪০ নম্বর ঘরের বরাদ্দপ্রাপ্ত দুলাল বিশ্বাস জানান, তার অনুপস্থিতিতে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রবিউল ইসলাের নির্দেশে ঘরের তালা ভেঙে তার মালামাল বের করে অন্য এক ব্যক্তিকে তোলা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বরাদ্দকৃত জমিতে তার সন্তানের কবর থাকায় পূর্বের ইউএনও মানবিক বিবেচনায় ঘরটি তাকে বরাদ্দ দিয়েছিলেন।

মহিপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পেও অনিয়ম :
মহিপুর ইউসুফপুর এলাকার আশ্রয়ণ প্রকল্পেও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৩৩ ও ৪৩ নম্বর ঘর দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ এবং সেসব ঘরে প্রকৃত মালিক না থেকে অন্যরা বসবাস করছেন। ২৭ নম্বর ঘরের মালিক ঘরটি অটোচালকের কাছে ভাড়া দিয়েছেন বলে জানা যায়।

প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া :
মহিপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের সভাপতি মো. সোহরাফ হোসেন জানান, অনেক ঘরে বরাদ্দপ্রাপ্তরা না থেকে তাদের স্বজনেরা থাকছেন, তবে তারা প্রকৃত ভূমিহীন কিনা তা তিনি নিশ্চিত নন।
মহিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফজলু গাজী জানান, বিষয়টি তার জানা নেই, তবে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ##

প্রিন্ট করুন