তৌফিক হোসেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত চারদফা দাবি মেনে নিয়েছে সরকার। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টানা তিন দিন প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে রাস্তায় অবস্থানের ৫৬ ঘন্টার কর্মসূচির পর এই দাবি মেনে নেয়া হয়েছে।
শুক্রবার রাত ৮ টায় ইউজিসি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে এ ঘোষণা দেন জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড রেজাউল করিম। তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের দাবি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালন বাজেট বৃদ্ধি করার মাধ্যমে প্রথম দাবির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বাজেট বৃদ্ধির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রথম দাবি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে একই সঙ্গে আবাসন সংকট নিরসনে অস্থায়ী হল নির্মানের সিদ্ধান্ত হয়েছে, কা শুরু হবে। দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুরু হবে, ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।
ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ বলেন, আমরা সারাদিন এটা নিয়ে কাজ করেছি। ইউজিসি একটি পরিবার হিসেবে সবাই মিলে সমাধান করতে পারব। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি একসাথে বসে সব সমাধান করব। আপনাদের সকল দাবি বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি। এসময় ইউজিসি চেয়ারম্যান বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি আদায়ের জন্য গন অনশনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের পানি পান করিয়ে অনশন ভাঙান।
জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড রইছউদ্দীন বলেন, আমাদের চতুর্থ দাবি ছিলো আমাদের উপর হামলায় জড়িতিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া। হামলার ঘটনায় পুলিশ দু:খ প্রকাশ করেছে। এ ছাড়া সাত দিনের মধ্যে হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নিবে। এছাড়া সরকার আমাদের সকল দাবি মেনে নিয়েছে। এ সময় শাটডাউন তুলে নিয়ে তিনি বলেন, আমরা ক্যাম্পাসে ফিরে যাবো। আগামীকাল থেকে ক্যাম্পাসের কার্যক্রম স্বাভাবিক রীতিতে চলবে। তবে আবারও যদি গড়িমসি করা হয় আমরা ভয়ংকর রুপে আবার রাজপথে ফিরে আসবো।
চার দফা দাবিতে টানা তিন দিন অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষক শিক্ষার্থীরা। এদিন বিকেল ৩.৪৫ মিনিটে গনঅনশন শুরু করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা।আনুষ্ঠানিকভাবে অনশন শুরু করেন অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী।
এদিন অনশন কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সদস্য অধ্যাপক ড. মনজুর মোর্শেদ ভূঁইয়া।
এদিন সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা আন্দোলনস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন। তাদের সঙ্গে সাবেক শিক্ষার্থীরাও একত্রিত হন। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে রোটেশনের মাধ্যমে ৫৬টির বাসে করে শিক্ষক শিক্ষার্থী কর্মকর্তা কর্মচারীসহ সাবেক শিক্ষার্থীরা কর্মসূচিতে আসেন।
জবি শিক্ষার্থীদের বিজয় উল্লাস-
এদিকে শতকাল শুক্রবার শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনে অংশ নিয়ে বিকালে হিট স্ট্রোক করেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. ইয়াসিন। তিনি বর্তমানে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
বোতল নিক্ষেপকারী শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়া-
গত বুধবার রাত দশটায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে আসলে তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের দিকে বোতল ছুড়ে মারেন এক শিক্ষার্থী। শুক্রবার বিকেলে তাকে ডিবি অফিসে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য নেয়া হয়। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদের পর ওই শিক্ষার্থীকে পরিবারের জিম্মাই তাকে হস্তান্তর করা হয় বলে জানায় উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। ফেসবুক পোস্টে তিনি এটা নিশ্চিত করেন। একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও এটি নিশ্চিত করেন। তার পরিবারকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায় নি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দাবি ছিলো – ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর জন্য আবাসন ভাতা চালু রাখা, একটি পূর্ণাঙ্গ আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই ভাতা অব্যাহত রাখা, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত বাজেট পূর্ণাঙ্গভাবে অনুমোদন ও বাস্তবায়ন, দ্বিতীয় ক্যাম্পাস স্থাপনের চূড়ান্ত অনুমোদন ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ, এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের বর্বর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা।
এর আগে গত বুধবার ১৪ মে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’র দিকে শিক্ষার্থীরা পদযাত্রা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কাকরাইল মসজিদ এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও গরম পানি নিক্ষেপ করে। এছাড়া লাঠিচার্জ চালালে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাংবাদিকসহ শতাধিক আহত হন। এ ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়ে বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।