কাজী ওমর ফারুক, মোংলা প্রতিনিধি: বেলা ১১টার মধ্যেই রাস্তায় নেমে দাঁড়ানো দায় হয়ে পড়ে। বাতাস নেই, ছায়া নেই, মাথার ওপর শুধু আগুন ঝরানো সূর্য। মোংলার মানুষ আজ ক্লান্ত, অবসন্ন, নিঃশ্বাস নিতে চায় একটু স্বস্তির—এক ফোঁটা বৃষ্টির আশায় তাকিয়ে আছে আকাশের দিকে।
বৈশাখের খরতাপে যেন জ্বলছে এই বন্দরনগরী। গরমে রাস্তাঘাট ফাঁকা, দোকানপাটে নেই আগের মতো ভিড়, আর খোলা আকাশের নিচে যাঁরা জীবন চালান—রিকশাচালক, দিনমজুর, হকার—তাঁদের জন্য এ যেন নিঃসীম দহন।ভ্যানচালক রাজীব বললেন, “মনে হয় সূর্যটা মাথার ওপর নামছে। শরীরে যেন আগুন পড়ে। কিন্তু কাজ না করলে খাওয়া জুটবে না, তাই বের হতেই হয়।
সবজি বিক্রেতা ইব্রাহিম হোসেনের কণ্ঠে শোনা গেল একরাশ হতাশা, “মানুষ বাইরে আসেই না। সকাল সকাল দু-একজন আসে, তারপর বাজার পড়ে থাকে ফাঁকা।মোংলার এক কাপড় ব্যবসায়ী মো. রিপন হাওলাদার বললেন, “দিনের বেলায় দোকান খুলে বসে থাকি, কোনো বিক্রি নেই। সন্ধ্যায় একটু মানুষ বের হয়, কিন্তু তা দিয়ে চলে না।
রোববার (১১মে)মোংলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে।
খুলনা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মো. শাহ আলম বলেন, “এখন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে শুষ্ক ও গরম বাতাস বইছে। এর ফলে তাপমাত্রা আরও কয়েকদিন এভাবেই থাকবে। মেঘ না থাকায় সূর্যের তাপ সরাসরি অনুভব হচ্ছে।”
শুধু দেহ নয়, মনেও চাপ তৈরি করছে এই তাপদাহ। ক্লান্তি জমে উঠছে চোখেমুখে। শিশুদের স্কুলে যাওয়া কমে গেছে, বাজারে সবজির দাম বেড়েছে, শুকিয়ে যাচ্ছে গাছপালা।
মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. শাহিন বলেন, “এই ধরনের গরমে শরীর দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে। যারা রোদে কাজ করেন, তাঁদের হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি। সবাইকে প্রচুর পানি পান করতে হবে, হালকা খাবার খেতে হবে এবং রোদ এড়িয়ে চলতে হবে।
ক্লিনিকগুলোতে বাড়ছে পানিশূন্যতা ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।এ অবস্থায় মোংলার মানুষ তাকিয়ে আছে আকাশের দিকে। এক ফোঁটা বৃষ্টি, যা হয়তো ভিজিয়ে দেবে এই দহন, এনে দেবে কিছুটা প্রশান্তি।