আব্দুল্লাহ আল মামুন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি :বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শূচিতা শরমিনের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে প্রশাসনিক শাট ডাউন ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। তবে ক্লাস পরীক্ষা ও জরুরী সেবা চালু থাকবে বলে জানিয়েছে তারা।
সোমবার (৫ মে ) বেলা ১২টা থেকে উপাচার্যের স্বেচ্ছায় পদত্যাগের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রান্ডফ্লোরে পূর্বঘোষিত অবস্থান কর্মসূচী ও বিক্ষোভ মিছিল করে শিক্ষার্থীরা। এর পরে তারা ঘোষণা দেয় আগামীকাল(মঙ্গলবার) সকাল ১১টার মধ্যে উপাচার্য স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্র জমা না দিলে প্রশাসনিক কার্যক্রম শাটডাউন করে দেয়া হবে।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা এ সময় বলেন, আমরা আগামীকাল থেকে প্রশাসনিক সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিচ্ছি। যদি উপাচার্য সকাল ১১টার মধ্যে পদত্যাগ না করেন তবে যাদের পরিক্ষা চলছে, ক্লাস চলছে তাদের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সেদিকে বিবেচনা করে একাডেমি কার্যক্রম চলবে। এর পরেও যদি উপাচার্য পদত্যাগ না করে আগামী বুধবার থেকে আমরা বাধ্য হয়ে দক্ষিনাঞ্চল অচল করে দেয়ার কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।
এ সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী মোকাব্বেল শেখ বলেন, স্বৈরাচারী মনোভাবের এই উপাচার্যকে অতিদ্রুত পদত্যাগ করতে হবে। এই উপাচার্য একের পর এক প্রশাসনে ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসন শুরু করে। উপাচার্যের এসকল অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করলে অন্যায়ভাবে মামলা দেন। আমরা আন্দোলন করছি আগামীকাল থেকে প্রশাসনিক শাটডাউনসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
আন্দোলনরত ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী মোশাররফ হোসেন বলেন, উপাচার্যের এক দফা দাবিতে আমরা শিক্ষার্থীরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা গত ১৯ দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। ইউজিসি, শিক্ষা উপদেষ্টা যদি মনে করে আমরা তামাশা করছি তাহলে ভুল করবেন। আমরা জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে মহাসড়কে যাচ্ছি না। তবে আগামীকাল সকাল ১১ টার মধ্যে উপাচার্য যদি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করে তাহলে আমাদের কোনো উপায় থাকবে না।
জুলাই আন্দোলনে অন্যতম সমন্বয়ক ও বরিশাল মহানগরের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম শাহেদ বলেন “বিভিন্ন দাবি নিয়ে গত তিন সপ্তাহ যাবত আন্দোলন চলছে, তিনি চাইলে শিক্ষার্থীদের সাথে বসতে পারতেন কিন্তু তিনি শিক্ষার্থীদের কোনো দাবিতে কর্নপাত করেননি, এই ভিসি শিক্ষার্থীদের দাবি পূরনে ব্যার্থ হয়েছে, আমরা ইউজিসিকে আহ্বান করছি অবিলম্বে এই ভিসিকে অপসারণ করতে হবে। এবং একজন সৎ ও যোগ্য ভিসিকে নিয়োগ দিতে হবে।”
উল্লেখ্যা, গত ১৭ এপ্রিল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে স্বৈরাচারের পুর্নবাসন ও জুলাই আন্দোলনের পক্ষে অবস্থানকারীদের হয়রানির অভিযোগ তুলে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের ১৮ দিনের মাথায় শিক্ষার্থীরা উপাচার্য পদত্যাগের এক দফা দাবি ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা।