শাহাদাত হোসেন, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি : নোয়াখালীর সুধারাম মডেল থানার ক্লু-লেস বাবর হত্যা মামলার মূল আসামী গ্রেফতার, আলামত উদ্ধার এবং স্বেচ্ছায় বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি।
১৪ এপ্রিল রাত ১০টা তথ্য প্রযুক্তির পর্যালোচনার মাধ্যমে উক্ত মামলার তদন্ত সহায়ক টিম ও রেব-১১ উভয়ের যৌথ অপারেশনে বর্ণিত মধ্যম সুধারাম থানা করিমপুর গ্রামের,পিতা মৃত তাজুল ইসলামের ছেলে আসামী মনিরুল ইসলাম মামুন (৩০)কে নোয়াখালীর মাইজদী পেট্রোল পাম্পের নিকট হইতে কৌশলে গ্রেফতার করা হয়।
১০ এপ্রিল সুধারাম থানা মামলা নাম্বার ১৪ ধারা ৩০২/ ২০১/ ৩৪ পেনাল কোড।
উদ্ধারকৃত আলামত ভিকটিম বাবর এর ব্যবহৃত মোবাইল, গলায় শ্বাসরোধ করে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ভিকটিম বাবরের গায়ের লিলেন গেঞ্জি।
মামলার ভিকটিম বাবর গত ৯ এপ্রিল ২০২৫ তারিখ রাত ৯ টা ৩০ ঘটিকার পর হইতে পরিবারের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। পরবর্তীতে ১০ এপ্রিল ২০২৫ খ্রি.তারিখ দুপুরের অনুমান ১২ ঘটিকায় চর উড়িয়া সবজি খেতে তার লাশ পাওয়া যায়।
নোয়াখালী পুলিশ সুপার, মোঃ আব্দুল্লাহ্ আল ফারুক এর দিক নির্দেশানায়, অফিসার ইনচার্জ, সুধারাম মডেল থানা, জনাব মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আবু তাহের এর তত্ত্বাবধায়নে এসআই (নিরস্ত্র) স্পেসল্যব চৌধুরী প্রমোজ, এসআই (নিরস্ত্র) মো: মনির হোসেন, এসআই সুধন চন্দ্র দাস, সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্স এর সহায়তায় গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আসামী হত্যাকাণ্ডে নিজেকে জড়িয়ে বিস্তারিত বিষয় স্বীকার করে। আসামি কতিপয় ব্যক্তির কাছ থেকে ধার নেওয়া ৪৫ হাজার টাকার পরিবর্তে ৯০ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হওয়ায় অতিরিক্ত টাকা সংগ্রহে তার পরিচিত বাবর এর অটো রিক্সা বিক্রি করে টাকা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
সে মোতাবেক তাকে নিয়ে দত্তেরহাট এসে ফ্রুটিকা জুসের সাথে কৌশলে ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে বিনোদপুর ইউনিয়নের জালিয়াল গ্রামের নির্জন বাগানে অটো রিক্সাটি রেখে উক্ত বাবরকে নিয়ে প্রথমে সোনাপুর যায়। তারপর সিএনজি যুগে পূর্ব চরউরিয়া গ্রামের সুইসগেট সংলগ্ন কৃষি অফিসের সামনে ডান দিকে নির্জন স্থানের সবজি বাগানে নিয়ে ঘুমের ঔষধ খাওয়ানো দুর্বল ভিকটিম বাবরকে তার গায়ের লিলেন গেঞ্জি দিয়ে গলা ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। ভিকটিমের স্যান্ডেল বাঁশ ঝাড়ে পাশে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত লিলেন গেঞ্জিটি তার পাশে কলাবাগানে রেখে পালিয়ে যায়। শুধু মাত্র টাকার নেশায় সে উক্ত হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে মর্মে স্বীকার করে।
আসামী মনিরুল ইসলাম মামুন (৩০) স্বেচ্ছায় বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করিতে ইচ্ছুক হওয়ায় তার জবানবন্দি গ্রহণের নিমিত্ত্বে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আসামী ঘটনার দায় স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে।অটোরিকশা, ভিক্টিমের ব্যবহৃত সেন্ডেল ও অপরাপর সহযোগী আসামি গ্রেপ্তার অভিযান চলমান।