Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ৮:২০ পূর্বাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ মার্চ ২৭, ২০২৫ , ৫:২৪ অপরাহ্ণ

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় হাত বাড়ালেই মিলছে ই*য়াবা,গাঁ*জা ও ফে*ন্সি*ডিল

লেখকঃ আজকালের কণ্ঠ

(বরিশাল) আগৈলঝাড়া প্রতিনিধি: বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা সদরসহ প্রত্যন্ত অঞ্চল। হাত বাড়ালেই মেলছে মরণ নেশা, ই*য়াবা, ফে*ন্সিডিল ও গাঁ*জা ঈদ উপলক্ষ্যে অভিযানেও গ্রে*প্তার নেই তালিকাভুক্তরা।

গোয়েন্দা বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, বেনাপোল,খুলনা থেকে যশোর হয়ে গোপালগঞ্জের মধ্য দিয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলার পয়সারহাট মহাসড়ক ধরে গৌরনদী হয়ে মাদকের চালান পৌঁছে যায় বরিশাল বিভাগীয় শহরসহ দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে।

এই রুটের নিরাপদ ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে মা*দক ব্যবসায়ীরা ব্যবহার করে পয়সারহাট ও এর আশপাশ এলাকাকে। পুলিশ প্রশাসন মাঝে মধ্যে দু’একজন গাঁ*জা বিক্রেতা ও সেবনকারীকে গ্রেপ্তার করলেও মুল হোতাদের গ্রেপ্তারে তৎপর না হওয়ায় কোন ভাবেই মা*দক সেবিদের অদম্য উন্মাদনা রোধ করা যাচ্ছে না বলে উপজেলা পরিষদের মাসিক আইন শৃঙ্খলা সভায় কর্মকর্তা, সাংবাদিকরা, জন প্রতিনিধি ও সুধী সজ্জনেরা অভিযোগ করে আসছেন।

অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিয়ে রয়েছেন চরম উদ্বিগ্ন। পুলিশ বলছে আইনি দুর্বলতার জন্যই বেশী দিন তাদের আটক রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তবে ঈদকে সামনে রেখে আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে সম্ভাব্য সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. অলিউল ইসলাম।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মাঝে মধ্যে খুচরা মা*দক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের সাজা প্রদান করলেও মাদক ব্যবসায়ীরা এতটুকু দমেনি। জেলা পুলিশ বিশেষ শাখার সর্বশেষ তালিকানুয়ায়ি, উপজেলায় পাইকারি গাঁ*জা, ফেন্সিডিল ও ইয়াবা বিক্রেতার সংখ্যা ৩৯ জন।এদের মধ্যে ২০২৪ সালে ওই তালিকায় বিক্রেতার সংখ্যা দাড়িয়েছে ২৪ জনে।

এলাকায় নৌ, ডাকাত, রোড ডাকাত, ট্রান্সফরমার চোরের তালিকায় নাম রয়েছে ২০ জনের। তালিকাভুক্ত ২০ জনের সকলের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মামলা। এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের তালিকায় রয়েছে ৩১ জন।

তবে গোয়েন্দা তালিকাভুক্ত কাউকেই পুলিশ সাঁড়াশি অভিযানের মধ্যে গ্রেপ্তার করেনি। সম্প্রতি দেশব্যাপী অভিযানে আগৈলঝাড়ায় পুলিশের তালিকাভুক্ত উল্লেখযোগ্য কোন সন্ত্রা*সী, মা*দক বিক্রেতা, চাঁ*দাবাজ গ্রেপ্তার না হওয়ায় জনমনে ক্ষোভেরও কমতি নেই। আগৈলঝাড়া পুলিশের নিষ্ফল অভিযান।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, উপজেলায় মাদক বিক্রি ও সেবনের কয়েকটি চিহ্নিত স্পট হচ্ছে— রথখোলা এস্টান গৈলা হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকা, উপজেলা সদরের হেলিপ্যাড, কালি খোলা, পয়সারহাটের পূর্ব ও পশ্চিমপাড়ের ভ্যানস্ট্যান্ড, বাগধা, পাকুরিতা স্কুল এলাকা, জোবারপাড়,নাঘিরপাড়ের ব্রিজ ও স্কুল এলাকা, বড়মগরার উত্তরপাড়, আস্করের বাঁশতলা, চক্রিবাড়ি, কান্দিরপাড়, ছয়গ্রাম বন্দর, মিশ্রিপাড়া হাট, কালুরপাড়, সাহেবেরহাট, মাগুরা বাজার, ভালুকশি, রাজিহার, বাশাইল, পূর্ব সুজনকাঠী রামেরবাজার, সহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিনিয়ত মাদক বিক্রি ও সেবন চলছে।

আগৈলঝাড়া পয়সারহাট এ রুটের ব্যবসায়ীরা ত্রিমুখী ও আমবৌলা খেয়া ঘাট দিয়ে মাদকের বড় চালান পার করছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।এব্যাপারে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. অলিউল ইসলাম জানান, ঈদ উপলক্ষ্যে পয়সার হাটে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। মাদকের ব্যাপারে আমারা কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি।প্রতিদিনই মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে। ঈদ উপলক্ষ্যে কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হবে।

প্রিন্ট করুন