পটুয়াখালী প্রতিনিধি : কুয়াকাটার ডিসি পার্ক সংস্কারের নামে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রবিউল ইসলাম তার অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল বাসার এর মাধ্যমে কুয়াকাটা ডিসি পার্ক সংস্কারের নামে ছয়টি প্রকল্প তৈরী করেন।যথাক্রমে –
(ক) লতাচাপলী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কুয়াকাটা ডিসি পার্কের ক্যান্টিন সংস্কার ও উন্নয়ন, বরাদ্ধের পরিমাণ ৪ লক্ষ, ৫০ হাজার, প্রকল্প সভাপতি মোঃ মিজানুর রহমান।
(খ) লতাচাপলী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কুয়াকাটা ডিসি পার্কের অভ্যন্তরে মাটি ভরাট এবং কার্পেট ঘাসসহ বৃক্ষ রোপণ, বরাদ্ধের পরিমাণ ৪ লক্ষ, প্রকল্প সভাপতি মোঃ মিজানুর রহমান।
(গ) লতাচাপলী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কুয়াকাটা ডিসি পার্কের ভিআইপি ১ নম্বর কক্ষ সংস্কার ও উন্নয়ন, বরাদ্ধের পরিমাণ ৪ লক্ষ, ৫০ হাজার, প্রকল্প সভাপতি মোঃ মিজানুর রহমান।
(ঘ) লতাচাপলী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কুয়াকাটা ডিসি পার্কের ভিআইপি ২,৩ নম্বর কক্ষের এ্যাটাস্ট টয়লেট নির্মাণসহ সংস্কার ও উন্নয়ন, বরাদ্ধের পরিমাণ ৪ লক্ষ, ৫০ হাজার, প্রকল্প সভাপতি মোঃ মিজানুর রহমান।
(ঙ) লতাচাপলী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কুয়াকাটা ডিসি পার্কের পশ্চিম পাশের্^র শয়ন কক্ষের সংস্কার ও উন্নয়ন, বরাদ্ধের পরিমাণ ৪ লক্ষ, ৫০ হাজার, প্রকল্প সভাপতি মোসাঃ আমেনা।
(চ) লতাচাপলী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কুয়াকাটা ডিসি পার্কের চার পাশের্^ আরসিসি বাউন্ডারিসহ সিসি রাস্তা নির্মাণ ও পার্কের অভ্যন্তরে রাস্তা সংস্কার ও পেভমেন্ট টাইলস করণ, বরাদ্ধের পরিমাণ ১৬ লক্ষ, ৫০ হাজার, প্রকল্প সভাপতি মোসাঃ আমেনা। এই ছয়টি প্রকল্পে মোট বরাদ্ধ দেখান হয়েছে ৩৮ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে চারটি প্রকল্পের সভাপতি করা হয়েছে লতাচাপলী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ মিজানুর রহমানকে।
মিজানুর রহমান বলেন, ‘রোজার দিন পনের আগে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের পক্ষ থেকে প্রকল্পের ফরম নিয়ে আসেন আমাদের কাছে’। ‘বলা হয়েছে ডিসি পার্কের সংস্কারের কাজ করা হবে’। ‘সেখানে আপনাদের দুই মেম্বারকে প্রকল্পের সভাপতি করা হয়েছে’।‘ আপনারা ফরম পূরণ করে কলাপাড়া নিয়ে আসেন’। ‘আমরা দুই ইউপি সদস্য ফরম পূরণ করে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল বাসারের কাছে যাই’। ‘পরে তিনি পিআইও অফিসে ফরম জমা দেয়ার কথা বলেন’। ‘আমরা পিআইও অফিসে ফরম জমা দিয়া বাড়ি আসি’। ‘এর তিন চার দিন পরে ওই প্রকল্পের অর্ধেক টাকার বিল ভাউচার সম্পাদন করে আমাদের কলাপাড়া যেতে বলেন’। ‘তখন আমাদের মাথায় চিন্তা ঢুকলো আমরা কিছুই জানি না, কোন কাজ করলাম না কিন্তু বিল উঠাতে হবে বিষয়টি কি, এর পর থেকে একের পর এক ফোন আর ফোন’।
তিনি আরও বলেন, ‘কলাপাড়া গিয়ে পিআইও অফিসে গেলাম, সেখানে পিআইও মহোদয় নাই, তার অফিসের হাফিজ ভাই বলে কাগজ পত্র প্রস্তুত করে দিলাম এ বিষয় আমি কিছু জানি না, আপনারা প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল বাসারের কাছে চলে যান’। ‘বাসার সাহেব এর কাছে গেলে তিনি বলেন, ব্যাংকে গিয়া টাকা উঠিয়ে খোকনের কাছে টাকা রেখে যান স্যার বলছে’। ‘আমরা চেক নিয়া কৌশলে বাড়ি আসি। এর পর থেকে ইউএনও অফিস থেকে বিভিন্ন লোকের পরিচয় দিয়ে বলেন মেম্বারী করতে হলে চেক নিয়া কলাপাড়া আসেন’। ‘তাদের চাপে পড়ে কলাপাড়া গিয়ে সোনালী ব্যাংক থেকে ১৯ লক্ষ টাকা উত্তোলন করার পর ইউএনও অফিসের খোকন ও সুমন সমূদয় টাকা ব্যাগের ভিতর ঢুকাইয়া গাড়িতে করে নিয়া চলে যান এবং আমাদেরকে বাসার সাহেবের সাথে দেখা করে যেতে বলছেন’। ‘বাসার সাহেব আমাদের আসা যাওয়ার জন্য দশ দশ বিশ হাজার টাকা দিয়া বলেন, পরবর্তী বিলের সময় আপনাদের ভালো একটা খরচ দেয়া হবে, আমরা সে টাকা ফেরৎ দিয়া বাড়ি চলে আসি’। ‘এখন আবার দ্বিতীয় বিলের জন্য ডাকতেছেন আসলে এর রহস্য কি? কেন ইউএনও মহোদয় আমাদের সাথে এমন আচারণ করতেছে’। ‘সে কাজ করলে আমাদের নামে প্রকল্প কমিটি করার দরকার কি ছিল’। ‘স্যার সরাসরি আমাদের সাথে কথা না বলে তার লোক দিয়ে কথা বলায় এখন এই কাজের দায়ভার কে নিবে, আমরাতো কিছুই জানি না’।
কুয়াকাটা ডিসি পার্ক সংস্কারের কাজটি এখন ‘ডাক হরকরার’ মত হয়েছে। ডাক পিয়ন সে নিজেও জানে না তার কাঁধে বহণকারী থলের ভিতর কি রয়েছে।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল বাসার বলেন, এবিষয় আমি কিছু জানি না, এটা পিআইও মহোদয় জানেন।
এবিষয় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ মোকছেদুল আলম বলেন, কমিটি আছে কিন্তু ডিসি পার্কের কাজটি মূলত উপজেলা প্রশাসন করে, তবে কমিটির পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ পেলে সেটি দেখা হবে।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন, কুয়াকাটা ডিসি পার্কের কাজটি ডিসি স্যারের নির্দেশে উপজেলা প্রশাসন করতেছে।