Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ১২:৫৮ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৫ , ১২:১৭ অপরাহ্ণ

ছাত্রলীগের গ্রেফতারকৃত নেতার মুক্তির দাবিতে সরকারি কর্মচারিরা শৃঙ্খলাবিধি উপেক্ষা করে জনসেবা ব্যাঘাত

লেখকঃ আজকালের কণ্ঠ

বায়েজিদ আহমেদ, ঢাকা : ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রেতাত্মারা নানা ছলনায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বিব্রত ও অকার্যকর প্রমাণ করতে চাইছে, যাতে সরকারের সক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে দেশে একটি অচলাবস্থা প্রমান করা যায়।

গত ৫ ডিসেম্বর স্বৈরাচার সরকার পতনের পর থেকে এমনই একটি সরকারের গবেষণাগার বাংলাদেশ রেফারেন্স ইনস্টিটিউট ফর কেমিক্যাল মেজারমেন্টস-বিআরআইসিএমের বিজ্ঞানী-কর্মচারীরা, সরকারি কর্মচারী হয়েও পতিত স্বৈরাচারের বিটিম হয়ে প্রতিষ্ঠানে যেকেনো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ছয়মাসেরও বেশি সময় ধরে ঘোষণা দিয়ে কর্মবিরতি পালন করছে।

কেউ কেউ নিজেদের ছাত্রশিবিরের নেতা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে। নিঃসন্দেহে এসব বিদ্রোহী নাটের গুরুরা সরকারী কর্মচারী চাকরি বিধি ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ করছে। এদের মধ্যে মোঃ মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে মোঃ আবু হাসান, মেহেদি হাসান টুটুল, জাবেদ বিন আহমেদ, ওমর বিন হামজা, রাইসুল ইসলাম, মইনুল হুদা,তোহিদুল ইসলাম,মুহিব প্রতিষ্ঠানকে জিম্মি করে বিভিন্ন সময়ে তাদের নানা ব্যক্তিস্বার্থ ও অযৌক্তিক দাবীতে উদ্দেশ্যে লাগাতার আন্দোলনের নামে অরাজকতা করছে।

শুধু তাই না তারা নিজেরা বাকি কর্মচারীদের বাধ‍্য করছে আন্দোলনে যুক্ত হতে। তারা পতিত স্বৈরাচারের দোসর হয়ে বিভিন্ন সময় ফেইসবুক এ পতিত সরকারের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। সম্প্রতি এ প্রতিষ্ঠানের একজন বিজ্ঞানী মশিউর রহমান, যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফএইচ হল ছাত্রলীগের প্রাক্তন সহসভাপতি, বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা মামলায় গ্রেফতার হয়।

একই ধরনের আরেকটি মামলার আসামি ছাত্রলীগ নেতা সাদ আল রেজওয়ান সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালকের সঙ্গী হয়ে বিদেশ ভ্রমণও করেছেন। মহাপরিচালক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই গ্রেফতারের প্রতিবাদে বিআরআইসিএমের বিজ্ঞানী ও কর্মচারীরা ব‍্যাপক বিক্ষোভ আন্দোলন শুরু করে।

এমনকি তারা গ্রেফতারকৃত নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের এই নেতার মুক্তির দাবিতে প্রতিষ্ঠানে তালা দিয়ে কর্মবিরতি এবং মানববন্ধন পালন করছে।হাজারো ছাত্র-জনতার রক্তের দাগ মুছে না যেতেই, পতিত স্বৈরাচারের একজন দোসরের গ্রেফতারে প্রতিবাদ জানাতে বিআরআইসিএমের বিজ্ঞানী-কর্মচারিদের বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে এই আচরন রীতিমতো ধৃষ্টতা।

এদের এধরনের কর্মকাণ্ড সরকারী কর্মচারীদের শৃঙ্খলা পরিপন্থী। তবে আওয়ামী সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া এসব কর্মচারীরা সরকারি নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে গত ছয়মাস যে কোনো উপায়ে পতিত ফ‍্যাসিস্ট সরকারের গোপন এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। তারা কোনভাবেই প্রতিষ্ঠানটির পরিবেশ শান্ত হতে দিচ্ছে না।

KPIভুক্ত এ প্রতিষ্ঠানে কর্মচারীরা নিজেরা সিসিটিভিতে টেপ মেরে বন্ধ রেখে এবং গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোর সিসিটিভি নিজেরাই সরিয়ে ফেলে গোপনে কোন সন্দেহজনক কাজ করছে বলে ছাত্র জনতার ধারণা। তারা ধ্বংসাত্মক কোন কাজে লিপ্ত বলে মনে করছে আপামর ছাত্র জনতা। কারণ গবেষণাগারে অনেক দাহ্য ও বিশেষ কেমিক্যাল থাকে, সব রুমের চাবি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ক্যামেরার আড়ালে তারা কোন অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অবৈধ কাজ করছে বলে প্রতীয়মান হয়।

এদের অবৈধ আন্দোলন অযৌক্তিক দাবির কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সর্বসাধারণ সরকারি সেবা পেলে বিভ্রান্ত ও হতাশাগ্রস্থ হচ্ছে। সাধারণ ছাত্র জনতা এর প্রতিকার চেয়ে অবৈধ নিয়োগ প্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার সহ সরকারি সেবা অতি দ্রুত নিশ্চিত করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেন।

দেশের বর্তমান ক্রান্তিকালে সরকারি কর্মচারীদের এধরনের উদ্ধত ও দুঃসাহসী আচরন তুচ্ছজ্ঞান করার সুযোগ নেই। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে আমলে নিয়ে এলাকাবাসী ও জনস্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষের সদয় ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করে ছাত্র জনতা।

প্রিন্ট করুন