Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ১২:১৫ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৫ , ৫:৩৫ অপরাহ্ণ

লালমনিরহাটে আমের গাছে গাছে মুকুলের সমারোহ

লেখকঃ আজকালের কণ্ঠ

জাহেদুল ইসলাম রতন লালমনিরহাট : প্রকৃতিতে যখন মাঘের হাওয়ার শীতের কাঁপন তখন শীত ভেদ করে পাতার ফাঁকে ফাঁকে এখন শতে শতে দেখা মিলছে আমের সোনালি মুকুলের। ইতিমধ্যে মৌ মৌ ঘ্রাণ ছড়াতেও শুরু করেছে প্রকৃতিতে।

রোদ-কুয়াশার লুকোচুরির মধ্যেই লালমনিরহাট জেলার ৫টি উপজেলার আমের বাগানের প্রকৃতি সাজাতে সোনালি মুকুল প্রস্ফুটিত হচ্ছে গাছে গাছে।

লালমনিরহাট জেলা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে মুকুলের পাগল করা ঘ্রাণ, ছড়াচ্ছে সেই মুকুলের সুবাসিত পাগল করা বাতাস। বাতাসে মিশে সৃষ্টি করছে মৌ মৌ গন্ধ। যে গন্ধ মানুষের মন ও প্রাণকে বিমোহিতসহ মুকুলের আশেপাশে মৌমাছির আনাগোনা। অনেকেই মুকুল রক্ষা করতে বাগান মালিকরা পরিচর্যায় ব্যস্ত হয়ে গাছে গাছে ওষুধ স্প্রে করতে দেখা যাচ্ছে। তবে আবহাওয়া বিরুপ না হলে এ বছর আমের উৎপাদন ছারিয়ে যাবে অনেক আমবাগান মালিক বলছেন।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, জেলা সদরসহ আদিতমারী, কালীগঞ্জ,হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলা বিভিন্ন এলাকায় অপেক্ষাকৃত ছোট ছোট আম গাছে মুকুল আসতে শুরু হয়েছে। কিছু কিছু গাছে মুকুলে ছেয়ে গেছে গাছ। সোনারাঙা সেই মুকুলের সৌরভ ছড়াচ্ছে বাতাসে। প্রজাপতি, মৌমাছি মধু সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পরছে। অন্যদিকে মুকুল আসা শুরুর পর থেকেই বাগানের পরিচর্যায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন বাগানের মালিক, চাষি ও ব্যবসায়ীরা।

লালমনিরহাট কৃষি বিভাগ জানান, জেলায় ৪শত ৭৪হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের আমের আবাদ হয়েছে। সম্প্রতিক বছরগুলোতে আমের ভালো ফলন হচ্ছে। এবছর শীতের শেষ দিকে মৌসুমের শুরুতেই পর্যাপ্ত তাপমাত্রা থাকায় আম গাছগুলো ব্যাপকভাবে মুকুলায়িত হয়।

অনুকুল আবহাওয়া ও বালাই না থাকায় মুকুল এসেছে গত বছরের চেয়ে অনেক বেশী।
পোকা ও বালাই দমনে গাছে গাছে আম চাষীরা ঔষুধ ছিটাচ্ছেন এবং গাছের গোড়ায় পানি দিচ্ছেন। আর অল্প কিছু দিনের মধ্যে গাছে গাছে ঝুলতে দেখা যাবে সব ধরণের আম।

লালমনিরহাট জেলা সহ উত্তরঞ্চলে ১৫ থেকে ২০ জাতের আম চাষ হয়ে থাকে। আর সারা বাংলাদেশে রয়েছে ২শ ৫০ জাতের। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে হারিভাঙ্গা,ফজলী, গোপাল ভোগ, মোহন ভোগ, ন্যাংড়া, ক্ষিরসাপাত, হিমসাগর, কৃষাণ ভোগ, মল্লিকা, লক্ষণা, আম্রপলি, দুধসর, দুধকলম, বিন্দাবনী, আরজান, রাণী পসন, মিশ্রীদানা, সিঁন্দুরী, আশ্বিনা সেই সঙ্গে নানা প্রকার গুটি আম।

ফলে আমচাষীরা আশা করছেন, আমের বাম্পার ফলন হবে। কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় আমের পরিচর্যা চলছে। এ জেলার বসতবাড়িতে যাদের আম গাছ আছে তারাও পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
তবে আবহাওয়া অনুকূল থাকলে ৬হাজার মেট্রিক টন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদন হবে বলে তিনি জানান।

প্রিন্ট করুন