Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ৫:০৩ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৫ , ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ

স্বৈরাচারের দোসরদের গ্রেফতারের দাবিতে আইজিপি বরাবর ছাত্র-জনতার স্মারকলিপি

লেখকঃ আজকালের কণ্ঠ

বায়েজিদ আহমেদ জোনায়েদ : বৈষম্য বিরোধী ছাত্রজনতার আন্দোলনে হামলাকারী, পতিত স্বৈরাচারের দোসর, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফ এইচ হলের সাবেক ছাএলীগ সহ-সভাপতি মশিউর রহমান সম্প্রতি গ্রেফতার হয়েছেন। আদালতের নির্দেশে তিনি বর্তমানে জেল হাজতে আছেন।

গতকাল রবিবার(৯ জানুয়ারী) রাত ৮টার দিকে ছাত্র – জনতা পুলিশের মহাপরিদর্শক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে।

মশিউরকে ছাড়াতে আন্দোলনে নেমেছেন বাংলাদেশ রেফারেন্স ইনস্টিটিউট ফর কেমিক্যাল মেজারমেন্টস (বিআরআইসিএম)-এর বিজ্ঞানী-কর্মচারিরা। এই গ্রেফতারের প্রতিবাদে বিআরআইসিএমের বিজ্ঞানী ও কর্মচারীরা ব‍্যাপক বিক্ষোভ আন্দোলন শুরু করে। এমনকি তারা গ্রেফতারকৃত ছাত্রলীগের এই নেতার মুক্তির দাবিতে প্রতিষ্ঠানে তালা দিয়ে কর্মবিরতি পালন করছে।

বিষয়টি এ এলাকার ছাত্র সমাজকে বিক্ষুব্ধ ও মর্মাহত করছে। তাই তারা এবিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে। রাজধানীর নিউমার্কেট থানার ও মোঃ মোহসীন উদ্দিন ও নিউমার্কেট জোনের উপ পুলিশ কমিশনার (এসি) তারিক লতিফের মাধ্যমে এ স্মারকলিপি পৌঁছে দেওয়া হয়।

হাজারো ছাত্র-জনতার রক্তের দাগ মুছে না যেতেই, পতিত স্বৈরাচারের একজন দোসরের গ্রেফতারে প্রতিবাদ জানাতে বিআরআইসিএমের বিজ্ঞানী-কর্মচারিদের এই ধৃষ্টতায় সংশ্লিষ্ট সকলে বিস্মিত। জানা যায়, এই অপতৎপরতায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন এ প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানী মোঃ মনিরুজ্জামান যার সহযোগী মোঃ আবু হাসান, মেহেদি হাসান টুটুল, জাবেদ বিন আহমেদ, ওমর বিন হামজা, রাইসুল ইসলাম, মইনুল হুদা,তোহিদুল ইসলাম, মুহিব প্রমুখ।

এদের এধরনের কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্টদের ধারণা হচ্ছে, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির কর্মচারীরা যে কোনোভাবেই পতিত ফ‍্যাসিস্ট সরকারের গোপন এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। কেপিআইভুক্ত এ প্রতিষ্ঠানে কর্মচারীরা নিজেরা সিসিটিভিতে টেপ মেরে বন্ধ রেখে এবং গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোর সিসিটিভি নিজেরাই সরিয়ে ফেলে গোপনে কোন সন্দেহজনক কাজ করছে বলে ধারণা অনেকের।

এখানে তারা ধ্বংসাত্মক কোন কাজে লিপ্ত হচ্ছে কিনা খতিয়ে দেখা দরকার বলে এলাকার জনগণ মনে করেন। কারণ গবেষণাগারে অনেক দাহ্য ও বিশেষ কেমিক্যাল থাকে, সব রুমের চাবি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ক্যামেরার আড়ালে তারা কোন অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অবৈধ কাজ করছে কিনা, তা অনুসন্ধান করে দেখা জরুরি। এতে এলাকার নিরাপত্তার ঝুঁকি রয়েছে বলে সকলের আশঙ্কা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু কর্মচারী জানান, ভবনের মূল গেট তালা দিয়ে, সবাইকে নিচে বসে থাকতে বাধ্য করে, শুধুমাত্র চার-পাঁচ জন উপরে যাওয়া আসা করে। দরজা বন্ধ করে কাজ করে, যেখানে অন‍্যদের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকে। এভাবে তারা কি কাজ করতে পারে, এর সাথে নাশকতার কোন পরিকল্পনা রয়েছে কিনা, তা অনুসন্ধান করা এখন জরুরি। দেশের বর্তমান ক্রান্তিকালে সরকারি কর্মচারীদের এধরনের উদ্ধত ও দুঃসাহসী আচরন তুচ্ছজ্ঞান করা সমীচীন হবে না। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে আমলে নিয়ে এলাকা ও জনস্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া দরকার বলে তাদের অভিমত।

প্রিন্ট করুন