পটুয়াখালী থেকে মহিউদ্দিন খান : পটুয়াখালী বাউফল উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের নিজাম হাওলাদার দ্বিতীয় পুএ আলামিন হাওলাদার।
এই আল আমিন এর বাবা পেশায় একজন ছোট হোটেল ব্যবসায়ী ছোটবেলা থেকেই বাবার হোটেলে কাজ করেই পড়াশোনা করে আসছেন প্রাথমিক শিক্ষা জীবন মাধবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করেন পরবর্তীতে ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হন মাধবপুর নিশিকান্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একদিকে বাবার হোটেলে কাজ করা অন্যদিকে পড়াশোনা করা শত কষ্টের মধ্য থেকেও এই আলামিন বাবা-মায়ের কষ্টের কথা চিন্তা করে মনে মনে টার্গেট রেখে পড়াশোনা চালিয়ে যায়।
এপর্যায়ে ২০২২ এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে তার মনোবল বেড়ে যায় এবং ভালো কিছু করতে হবে পরবর্তীতে বরিশাল সরকারি কলেজে ভর্তি হন এসএসসি পরীক্ষায় ও আলামিন জিপিএ -৫ অর্জন করেন। আলামিন হোস্টেলের সিট না পেয়ে অনেক কষ্টে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছিল আলামিনের বাবার কোন জায়গা জমি নেই বাসায় মা অসুস্থ বড় ভাই এনামুল ও পড়াশোনা করে পাশাপাশি ছোট একটি চাকরি করেন তা দিয়ে তাদের পেট চলে না বাসায় ছোট ভাই ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ে ছোট বোন চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ে মাধবপুর স্কুলে।
এদিকে আলামিন সংসারের অভাবের কথা চিন্তা করে খেয়ে না খেয়ে বরিশাল রেটিনা কোচিং সেন্টারে যোগাযোগ করে স্বল্প খরচে কোচিং এ ভর্তি হয় পরবর্তীতে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে সরকারি বেসরকারি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় সারা বাংলাদেশের ভিতর ১১৭ তম। এই মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় আল আমিন ২০০ নম্বরের ভেতর মেধা স্কোর ১৮৬.২৫ অর্জন করেন।
এই আল আমিনের মা বলেন আমি অসুস্থ থাকাকালীন অবস্থায় আমার ছেলেকে নিয়ে ডাক্তার দেখাতে যাই সেখানে বসে এই আলামিনকে আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম বাবা আমি অনেক কষ্ট করে তোমাকে লেখাপড়া করাইতেছি তুমি বড় হলে কি হবে উত্তরে আলামিন বলেছিলেন মা আমি ডাক্তার হব ডাক্তার হয়ে তোমার চিকিৎসা করব , আজ এই মায়ের গর্বিত সন্তান ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার চান্স পেয়েছেন।
গর্বিত এলাকাবাসী ও স্থানীয় গ্রাম ডাক্তার অনিতাব রায় বলেন এর মায়ের প্রাথমিক চিকিৎসা আমি করতাম এই আল আমিনের মা অধিকাংশ সময় অসুস্থ থাকতেন ঠিকভাবে ঔষধের খরচ চালাতে পারতো না আমি তাদেরকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করি আজ তার ছেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েছেন শুনে আমার মনটা আনন্দে ভরে গেল।
এই আল আমিনের চাচা জসিম উদ্দিন মাধবপুর নিশিকান্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের খন্ডকালীন শিক্ষক বলেন ছোটবেলা থেকে ওকে আমি গাইডলাইন দিয়ে আসছি আমি জানতাম ও জীবনে ভালো কিছু করবে ও কখনো খারাপ ছেলেদের সাথে মিশতো না পড়াশোনায় মনোযোগী ছিল।
মাধবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক মিলন মিয়া বলেন ছোটবেলা থেকেই ও খুব ভদ্র নম্র এবং পড়াশোনায় মনোযোগী ছিলেন আজ আমরা গর্বিত।
মাধবপুর নিশিকান্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়দেব শিকারি বলেন এই আলামিন বাবার হোটেলে কাজ করে ও ক্লাসে এসে পড়ালেখায় খুব মনোযোগী ছিল ও আমাদের কাছ থেকে কিভাবে পড়াশোনার জন্য গাইডলাইন নিবে এ নিয়ে খুব ব্যস্ত থাকতো ওর সাফল্য আমাদের স্কুলের গৌরব।
এদিকে গ্রামের সকলের প্রশংসায় পঞ্চমুখ এই আল আমিন, গণমাধ্যমকে বলেন আমার বাবা-মার স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে ডাক্তার হয়ে দেশ ও মানুষের সেবা করতে পারি এ লক্ষ্যে আমার জন্য দোয়া করবেন।