Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ , ২:৩৭ পূর্বাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ ডিসেম্বর ২১, ২০২৪ , ৩:০৮ অপরাহ্ণ

কুয়াকাটায় জোর করে জমি দখল ও বাড়ি ঘর লুটের অভিযোগ

লেখকঃ আজকালের কণ্ঠ

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা : কুয়াকাটায় জমি জোর জবর দখল ও বাড়ি ঘর ভাংচুর করে মালামাল লুট করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে কুয়াকাটা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মো. হাবিবুর রহমান। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমার পিতা আলহাজ¦ গাজী মোঃ ইউসুফ আলী সাবেক জে,এল ৩৪ নম্বর লতাচাপলী মৌজার এসএ ৫৯৪ নম্বর খতিয়ান।

যার বর্তমান বিএস জে,এল নম্বর-৫৮, কুয়াকাটা মৌজার বিএস ৮০২ নম্বর খতিয়ানের মধ্যে মোকাম বরিশাল সাব জজ আদালতের ১৯৫৬ ইংরেজি সালের ২০ নম্বর দেওয়ানী মোকদ্দমার ডিগ্রীর বলে ৩.৩০, একর, ১৯৮৮ ইংরেজী তারিখের ৫০২১ নম্বর সাব কবলা দলিল মূলে সাড়ে ৬৬ শতাংশ, ১৯৮৭ ইংরেজী তারিখের ৪৪৮২ নম্বর দলিল মূলে সাড়ে ১৭ শতাংশ, ১৯৮৮ ইংরেজী তারিখের ৫৫৯০ নম্বর দলিল মূলে ১.৪৬ একর, ১৯৮৮ ইংরেজী তারিখের ১১৬৯ নম্বর দলিল মূলে ৩৩ শতাংশ, ১৯৭৮ ইংরেজী তারিখের ৬২৩১ নম্বর দলিল মূলে ৫০ শতাংশ, মোট ৬.৬২ একর, জমির মালিক বিদ্যমান থাকিয়া বৃক্ষ রোপণ, পুকুর খনন করে বসতবাড়ি তৈরী করে টিন সেট ঘর তৈরী করে বসবাস করে আসছেন। এমনকি নাল জমির চারদিকে আইল (সিমানা) তৈরী করে দীর্ঘ ৪০ বছর যাবৎ চাষাবাদ করে ভোগদখলে আছে।

আমার পিতার মালিকানাধীন বি,এস ৮০২ নম্বর খতিয়ানের জমি মোঃ নুর নবী গাজী ও হাবিব মৃধা গং, শাহজাহান বিশ^াস, বেল্লাল বিশ^াস, মোস্তফা ঘরামী, হারিচ ঘরামী ও ফরিদা গং গায়ের জোরে জবর দখল করার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্র করে আসছে। এছাড়া আমি আমার পিতার জমিতে ‘গাজী কটেজ’ নামক একটি আবাসি হোটেল তৈরী করে বাবসা বাণিজ্য পরিচালনা করে আসছি।

উল্লেখিত লোকজন হোটেল ব্যবসার বাণিজ্য ভাল দেখে আমার নিকট ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে ব্যর্থ হয়ে আমি ও আমার ডিতার ক্ষতি করার সুযোগ খুজতে থাকে।তিনি আরও বলেন, ৫ আগষ্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পরে একটি কু-চক্রি মহল নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য অন্যের জমি জোর জবর দখলসহ নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছে।

তারই ধারাবাহিকতায় ৫ আগষ্টের এ সুযোগে উল্লেখিত ব্যক্তিবর্গ ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমারদের ভোগদখলীয় রেকর্ডীয় জমি জবর দখল করতে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে একজোট হয়ে দা, ছেনা, লোহার রড, চাপাতি, জি আই পাইপ ইত্যাদি প্রাণ নাশক অস্ত্রাদি দিয়া বে-আইনিভাবে আমাদের বসত বাড়িতে অনুপ্রবেশ করে বসতঘরের দরজা ভাংগিয়া ঘরে প্রবেশ করে আমার পিতাকে খুনের উদ্দেশ্যে শাহজাহান বিশ^াস ও নুর নবী গাজির হাতে থাকা চাপাতি দিয়া বাম পায়ের গোড়ালিতে কোপ দিয়া গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে।

সংঘবদ্ধ ঐ চক্রের অপরাপর লোক লোহার হাতুড়ি দিয়া আমার পিতাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বাম পায়ের নলায় পিটিয়ে হাড় গুড়া করে দিয়া গুরুতর জখম করে। আমিসহ আমার অপর ভাইয়েরা বাবাকে বাঁচাতে গেলে আবু সালেহ মৃধা আমার ছোট ভাই ছোলায়মান গাজীকে দাড়ালো দা দিয়া মাথার উপরে কোপ মেরে জখম করে। বর্তমানে আমার পিতা মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। উল্লেখিত সন্ত্রাসীরা আমাকেও এলোপাতারি পিটাইয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে।

সংঘবদ্ধ ঐ চক্রের সাথে থাকা শাহানা আমার বোনের গলায় থাকা ১ ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন জোর পূর্বক ছিনিয়া নিয়া যায়। শুধু তাই নয় সন্ত্রাসীরা আমার পিতার এবং আমাদের ঘরের যাবতীয় মালামাল আসবাব পত্র, পিটিয়ে ভাংচুর করে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। সন্ত্রাসীরা ঘরের স্টীলের আলমীরা ভাংগিয়া আলমীরা হইতে নগদ ৩ লক্ষ ৫৪ হাজার টাকা এবং আলমীরার মধ্যে থাকা চেইন, আংটি, কানের বালা, দুল প্রায় ৫ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার নিয়া যায়।

সন্ত্রাসীরা ঘরবাড়ি ভাংচুর ও লুট করে ক্ষান্ত হয়নী পরবর্তীতে আমাদের ৮০২ নম্বর খতিয়ানের ১.৯০ একর, জমি জবর দখল করে ৬০ শতাংশ জমির মধ্যে টিনের দু’টি দোচালা ঘর তৈরী করে বসবাস শুরু করেন। আমরা নিরুপায় হয়ে কলাপাড়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করি, যার মামলা নম্বর সিআর ১৫৩৮/২৪ এবং কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে ১৪৪,৪৫ ধারায় ১৩জনকে আসামী করে পৃথক আরেকটি মামলা দায়ের করি, মামলা নম্বর ১৫৬/২৪, যাহা চলমান আছে।

এব্যাপারে নুর নবী বলেন, তার বাড়ি ঘর ভাংচুর ওটা রাজনৈতিক বিষয়, এখানে আমাদের কোন সম্পৃক্ততা নেই, তবে দীর্ঘ বছর তারা আমাদের জমি অন্যায়ভাবে ভোগদখল করেছিল, সেটা আমরা আমাদের জমি দখলে নিয়েছি এটা সত্য।

প্রিন্ট করুন