Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ৬:৩৫ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ নভেম্বর ২৬, ২০২৪ , ১২:২৫ অপরাহ্ণ

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী, কবি নজরুল ও মোল্লা কলেজের শিক্ষার্থীদের ত্রিমুখী সং’ঘ’র্ষ

লেখকঃ আজকালের কণ্ঠ

বায়েজিদ আহমেদ জোনায়েত : গত ১৬ নভেম্বর ২০১৪ খ্রি. শনিবার ডেমরার ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের শিক্ষার্থী অভিজিৎ হাওলাদার ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি হয়।

পরবর্তীতে গত ১৮ নভেম্বর ২০২৪ খ্রি. সোমবার তার মৃত্যু হয়। ঐ দিন রাতে তার পরিবার ও কলেজের কিছু শিক্ষার্থী ভুল চিকিৎসায় তার মৃত্যু হয়েছে অভিযোগে হাসপাতালে ভাঙচুর চালায়। ২০ নভেম্বর ২০১৪ খ্রি. বুধবার পুনরায় ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের ৫০০/৬০০ শিক্ষার্থী উক্ত হাসপাতালে এসে ভাঙচুর চালায়। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এ সময় প্রতিবাদকারীদের চাপে হাসপাতালের পরিচালক ০৪ জন ডাক্তার ও ০২ জন শিক্ষার্থীসহ।

অভিজিৎ এর চিকিৎসা সংক্রান্তে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কিন্তু ঐ সময় হাসপাতাল চত্ত্বরে অবস্থানরত ড.মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের শিক্ষার্থীরা তা প্রত্যাখান করে। সন্ধ্যার পর স্থানীয় শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করতে আসে। এ সময় ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের শিক্ষার্থীরা তা না মানায় উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের দুই ছাত্র আহত হয়। পরবর্তীতে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

২৪ নভেম্বর ২০২৪ খ্রি. আনুমানিক ২.০০ ঘটিকার সময় ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের শিক্ষার্থীরা ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পুনরায় ডাঙচুর চালায়। এক পর্যায়ে তারা শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল কলেজে ব্যাপক ভাঙচুর এবং লুটপাট চালায়।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অন্য ২৫ নভেম্বর ২০১৪ খ্রি. সোমবার শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল কলেজের প্রায় ১২/১৫ হাজার শিক্ষার্থী শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও বাহাদুর শাহ পার্কে জমায়েত হয়ে।আনুমানিক সকাল ১১ ঘটিকার সময় ডেমরার ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের দিকে অগ্রসর হবার চেষ্টা করে। আগে থেকে পুলিশ ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের সামনে অবস্থান করে। কিন্তু উচ্ছৃঙ্খল ও মারমুখী শিক্ষার্থীরা পুলিশের বাধা প্রতিহত করে লাঠিসোঠাসহ ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজে দিকে অগ্রসর হলে যাত্রাবাড়ী মোড়ে পুলিশ পুনরায় বাধা প্রদান করলেও তারা বাধা অতিক্রম করে উক্ত কলেজে পৌঁছে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।

জানা যায় ৩৫টি বিভিন্ন কলেজ শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে ইউনাইটেড কলেজ অব বাংলাদেশ (ইউসিবি) নামে একটি ফোরাম গঠিত হয়। অপরপক্ষে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও সরকারি কবি নজরুল কলেজ মিলে একটি জোট গঠন করে। গত কয়েকদিন ধরে ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের শিক্ষার্থী অভিজিৎ এর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ৩৫ কলেজের কোরাম ও কবি নজরুল কলেজের ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এবং এক পর্যায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও পরস্পরের প্রতি ঘৃণার মনোভাব সৃষ্টি হয়।

এ বিষয় শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ বলেন,মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের প্রশাসন আমাদের সাথে আলোচনায় বসতে চায়। কিন্তু আমি বলে দিয়েছি আমি আমার ছাত্র প্রতিনিধি ও শিক্ষক ছাড়া আলোচনায় বসতে পারবো না। তিনি শিক্ষা করে বলেন তোমরা নিজ নিজ বাসায় ফিরে যাও এবং সুশৃংখল এবং শান্ত থাকার জন্য অনুরোধ করছি। মোল্লা কলেজের স্টুডেন্টরা আমাদের কলেজে ধ্বংসাত্মক চালিয়েছে তার দায়ভার তাদের নিতে হবে। আমি প্রশাসনের সাথে কথা বলছি তোরা দ্রুত ব্যবস্থা নিবে।

এ সংঘর্ষের বিষয় মোল্লা মাহবুবুর রহমান কলেজের অধ্যক্ষ মিডিয়া প্রেস করে বলেন,কবি নজরুল কলেজ ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দিয়ে আজকে আমাদের প্রতিষ্ঠানে ধ্বংসাত্মক হামলা চালায় তাদের সাথে কুচক্রী মহল যুক্ত ছিল। তোরা হামলা চালিয়ে আমাদের প্রতিষ্ঠানের ল্যাপটপ কম্পিউটার মূল্যবান সামগ্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র লুট করে। এতে প্রায় ৩০ -৩৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা যায়। আমরা তৎক্ষণ প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি কিন্তু কোন পুলিস প্রশাসন পাওয়া যায়নি পেলে এতো ধ্বংসাত্মক হতো না।

পুলিশ যেকোনো অপ্রীতিক ঘটনা এড়ানোর জন্য অতিরিক্ত বল প্রয়োগ থেকে বিরত থাকে। পরিস্থিতি ভিন্নখাতে চলে যাওয়ার আশংকায় পুলিশ শান্তিপূর্ণভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এতদসত্ত্বেও উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং হামলা ও লুটতরাজে গুড়িয়ে পড়ে।শিক্ষার্থীরা মধ্যে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষের জেরে প্রায় ২৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উল্লিখিত ঘটনায় দুই জন নিহত হয়েছেন মর্মে অনেকেই অপপ্রচার চালাচ্ছেন যা মোটেই সঠিক নয়। সংশ্লিষ্ট সকলকে এরূপ অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে।

প্রিন্ট করুন