মোঃ জাহেদুল ইসলাম রতন, লালমনিরহাট : লালমনিরহাট-ফুলবাড়ী সড়কে কুলাঘাট এলাকায় রত্নাই নদীর ওপর সেতু নির্মাণকাজে ধীরগতি হওয়ায় স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়ীদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
রত্নাই নদীর ওপর সেতুটির সংযোগ সড়কের জন্য জমি অধিগ্রহণ নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা জটিলতা। এই দুই কারণে রত্নাই সেতুর নির্মাণ কাজ ধীর গতিতে চলছে। নির্মাণকাজ করছে কংক্রিট এন্ড স্টীল টেকনোলোজি নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
এ পর্যন্ত সেতুটির ৬০ শতাংশ কাজ হয়েছে। সেতুটির উভয় পার্শ্বে সংযোগ সড়কের জমি অধিগ্রহণ করতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা। ২০২৫ সালের ১৮ জানুয়ারি সেতুটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার চুক্তি রয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী মিজান ও বাদশা মিয়া জানান, উপজেলার কুলাঘাটে রত্নাই নদীর ওপর সেতুর কাজ আজও শেষ হয়নি।
আমরা ফুলবাড়ীবাসী রত্নাই নদীর ওপর জরাজীর্ণ স্টিল ব্রিজ দিয়ে কোন রকমেই ছোট পিকাপ ও ট্রাক দিয়ে অল্প করে দোকানের মালামাল আনছি। বুঝতে পাড়ছিনা আরও কত বছর অপেক্ষা করতে হবে। আরো বলেন আনারুল হক ও জিল্লুর রহমান , লালমনিরহাটের কুলাঘাটে রত্নাই নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আমরা এখনও রত্নাই নদীর ওপর পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ স্টিল ব্রিজ ব্যবহার করছি। স্টিল ব্রিজের ওপর দিয়ে শুধু হালকা যানবাহন চলাচল করতে পারছে। এ সেতুর ওপর দিয়ে ট্রাক চলাচল করতে না পারায় মালামাল পরিবহন করা যাচ্ছে না। এ কারণে লালমনিরহাট শহরের সাথে ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী ও ভূরুঙ্গামারী উপজেলার ব্যবসা-বাণিজ্য কার্যক্রম চলছে মন্থর গতিতে।
ব্যবসায়ী ইমাম আলি ও রাশেদুল ইসলাম জানান, কুলাঘাট রত্নাই নদীর ওপর সেতু নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় আমরা ঠিকমত ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারছি না। মালামাল পরিবহন করতে হচ্ছে, ট্রাকের পরিবর্তে ইজিবাইক ও ট্রলিতে । এ কারণে আমাদেরকে পরিবহন ভাড়া অতিরিক্ত ব্যয় করতে হচ্ছে। খুবই ধীরগতিতে চলছে সেতুটির নির্মাণ কাজ।
জানিনা সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হতে আরও কতদিন লাগবে আমরা বুঝতে পারছি না বলে জানান। এদিকে রত্নাই নদীর ওপর সেতুর কাজ সম্পন্ন হলে লালমনিরহাটের সাথে কুড়িগ্রামের তিনটি উপজেলার ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসার লাভ করবে। এ সব উপজেলার মানুষজনের যোগাযোগ ব্যবস্থায় উন্নতি আসবে। এতে স্থানীয়দের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা আসবে জানান ব্যবসায়ীরা।
এ প্রসঙ্গে লালমনিরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল মোমেন জানান জন্য জমি অধিগ্রহণ নিয়ে , সংযোগ সড়কের জন্য জটিলতা সৃষ্টি হয়,সেই কারণে সেতুর নির্মানকাজ স্থবির হয়েছিল। জমি অধিগ্রহণের জন্য ২ কোটি ৯০ লাখ টাকার অনুমোদন হয়েছে। জমির মালিকদের দ্রুত টাকা বুঝে দেওয়া হবে। ২০২৫ সালের মধ্যেই সেতুটি নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হবে।