Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ৬:৩৬ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ অক্টোবর ২৪, ২০২৪ , ৬:২৭ অপরাহ্ণ

বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া হলেও ঘূর্ণিঝড় ডানা থেকে নিরাপদ সাতক্ষীরা উপকূল

লেখকঃ আজকালের কণ্ঠ

মিলন বিশ্বাস (সাতক্ষীরা প্রতিনিধি): বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ডানা’র প্রভাবে বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) ভোর রাত থেকে সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকাসহ জেলার সর্বত্রই থেমে থেমে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বৃষ্টির সাথে মাঝে মাঝে বইছে দমকা হাওয়া। উপকূলের নদ-নদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে জোয়ারের পানি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ঘূর্ণিঝড় ডানা থেকে সাতক্ষীরা উপকূল নিরাপদ বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অফিস।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় ডানা মোকাবেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন। পরিস্থিতি মোকবেলায় ও দুর্গত মানুষের পাশে থাকার জন্য সাতক্ষীরার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। বুধবার বিকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির এক সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

শ্যামনগরের সুন্দরবন সংলগ্ন নীল এলাকার হুদা মালী জানান, বৃষ্টি হচ্ছে। মাঝে মাঝে ভারি বৃষ্টি হচ্ছে। সেই সাথে বইছে দমকা হাওয়া। উপকূলের সব নদ-নদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে জোয়ারের পানি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। তবে এখনো পর্যন্ত সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান তিনি।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী বলেন, ঘূর্ণিঝড়টি আজ সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে আগামীকাল শুক্রবার সকাল ৬টার মধ্যে ভারতের উড়িষ্যার পুরী ও পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপের মধ্যবর্তী উপকূলে আঘাত হানতে পারে। এ কারণে সাতক্ষীরা উপকূলে তেমন ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আশঙ্ক নেই।

তিনি বলেন, নদীতে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেলে সাতক্ষীরা উপকূলে জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাবনা থাকে, তবে জোয়ারের পানি স্বাভাবিক থাকার কারণে জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাবনাও নেই। বলা যেতে পারে ঘূর্ণিঝড় ডানা থেকে সাতক্ষীরা উপকূল নিরাপদ।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন। সাতক্ষীরায় ৮৮৭টি সাইক্লোন শেল্টার ও আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যেখানে ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫০০মানুষ নিরাপদে আশ্রয় নিতে পারবেন। এছাড়াও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘূর্ণিঝড় ‘ডানা’ মোকাবিলার সকল প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ৫ লাখ টাকার গো খাদ্য, ৫ লাখ টাকার শিশু খাদ্য, ৮০০ মেট্রিক টন চাল এবং নগদ অর্থ প্রায় ৭ লাখ টাকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দুর্যোগকালীন ও দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে উদ্ধার কার্যক্রম চালানোর জন্য ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, ট্রলার ও স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রিন্ট করুন