শাহাদাত হোসেন নোয়াখালী(কােম্পানীগঞ্জ)প্রতিনিধি: নোয়াখালী জেলার ঐতিহ্যবাহী ‘সােনাপুর’ খাল দখল-দূষণমুক্ত করতে খালে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও খনকাজ শুরু হয়েছে।
২৫ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) মাইজদী বাজার এলাকায় সংযোগ সোনাপুর খাল’ পরিষ্কারকরন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
দখল ও দূষণের কারণে নোয়াখালী জেলার ঐতিহ্যবাহী শহর খাল ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। ওই খালের নাব্যতাসহ অস্তিত্ব ফিরিয়ে আনতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও খননকাজ শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ উদ্যোগে এ কাজ শুরু হয়।
মাইজদী শহরের এলাকার খালের অংশ থেকে এক্সকাভেটর (খননযন্ত্র) দিয়ে ময়লা–আবর্জনা পরিষ্কার করা শুরু হয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত থেকে কাজ পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা। খালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ অব্যহত থাকবে বলে জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পানিনিষ্কাশন ও নৌযান চলাচলের সুবিধার্থে ব্রিটিশ শাসনামলে শহর খাল খনন করা হয়। একসময় খালের পানিতে সব বয়সী মানুষের গোসলসহ নারীরা গৃহস্থালির কাজ করতেন। খালে ছোট-বড় অনেক নৌকাও চলাচল করত। কিন্তু দেড় যুগের বেশি সময় ধরে দখল ও দূষণের কারণে প্রায় ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ঐতিহ্যবাহী খালটি এখন নালায় পরিণত হয়েছে।
জেলা শহরের আবাসিক এলাকাসহ বিভিন্ন বাজার, হোটেল, রেস্তোরাঁর ময়লা–আবর্জনা সরাসরি খালে ফেলা হয়। বিভিন্ন এলাকার পয়োনিষ্কাশনের নালার সংযোগ সরাসরি খালে। স্থানীয় ব্যক্তিদের অসচেতনতা ও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় খালটি ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। নাব্যতা হারিয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে খালটি।
জেলা প্রশাসক খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ বলেন, শহর খালটির অস্তিত্ব ও নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে বলে তিনি জানান। এসময় স্থানীয় বাসিন্দারা, সংবাদকর্মী ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।