Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ১১:৫৭ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৪ , ১২:১২ অপরাহ্ণ

অক্টোবর মাস ব্রেস্ট ক্যান্সার সচেতনামূলক মাস

লেখকঃ আজকালের কণ্ঠ

নিজস্ব প্রতিনিধি : স্তন ক্যান্সার কি ? স্তন হলো শরীরের বিশেষ গ্রন্থি যাতে রয়েছে সুবিন্যস্ত নালীর সমষ্টি। সকল অঙ্গের মতই এতে রয়েছে অসংখ্য ক্ষুদ্র কোষ। এসকল কোষের অনিয়ন্ত্রিত বিভাজনের ফলস্বরূপ স্তনে পিন্ড বা চাকা তৈরি হয়- যাকে বলাহয় ” টিউমার”। টিউমার ২ ধরনের হতে পারে-
১. “বিনাইন” বা ক্ষতিকর নয়
২. “ম্যালিগন্যান্ট” বা ক্ষতিকর / ক্যান্সার
এই ক্ষতিকর টিউমার যা ক্যান্সার হিসেবে পরিচিত স্তনের কোষ থেকে পার্শবর্তী কোষসমূহে ছড়িয়ে পড়ে এবং অতঃপর লসিকানালী ও রক্তনালীর মাধ্যমে শরীরে দূরবর্তী অংশে ছড়িয়ে পরে যেমন, লিম্ফনোড, হাঁড়, মস্তিষ্ক, যকৃত, ফুসফুস ইত্যাদি।

#বাংলাদেশে কি স্তন ক্যান্সার হয়?
উন্নত বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও নারীদের প্রধানতম ক্যান্সার হলো স্তন ক্যান্সার। প্রতিবছর ১ লক্ষ নারীর মধ্যে গড়ে ১৭ জন নারী নতুনভাবে এই রোগে আক্রন্ত হয় এবং ৮ জন নারী এই রোগের কারণে মৃত্যুবরণ করে।

#কাদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি?
– কমবয়সে ঋতুবর্তী হওয়া (১২ বছর বয়সের পূর্বে)
– বেশি বয়সে ঋতুজরা হওয়া (৪৫ বছরের বেশি বয়সে)
– প্রথম সন্তানধারণ ৩০ এর অধিক বয়সে হওয়া অথবা নিঃসন্তান
– শিশুকে বুকের দুধ পান না করালে
-স্তন ক্যান্সারের পারিবারিক ইতিহাস ( যেমন: মা, বোন, মেয়ে, নানী, খালা )
– বয়স ৩৫ এর বেশি
– শারীরিক স্থুলতা বা মেদবহুলতা।
– নিজে ধূমপান করা বা পরোক্ষ ধূমপায়ী হলে।
– মদপান করা।

# স্তন ক্যান্সারের লক্ষণসমূহ কি কি?
-স্তনের চাকা বা গোটা
– স্তনের চামড়ার বা বোঁটায় পরিবর্তন
-স্তন ফুলে যাওয়া বা আকার বিকৃত হওয়া
– স্তনের কোন অংশ বা বোঁটা ডেবে যাওয়া
– স্তনে ব্যথা
-স্তনের বোঁটা থেকে অস্বাভাবিক নিঃসরণ বা রক্তক্ষরণ

# স্তন ক্যান্সার বা ব্রেস্ট ক্যান্সার স্ক্রিনিং কি?
এটি একটি বিশেষ মেডিকেল পদ্ধতি যার মাধ্যমে আপাত নীরোগ বা লক্ষণবিহীন নারীদের পরীক্ষার মাধ্যমে স্তন ক্যান্সার প্রাথমিক অবস্থায় নির্ণয় করা হয়।

# স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং কেন প্রয়োজন?
প্রাথমিক অবস্থায় এই রোগটি নির্ণয় করা গেলে এর চিকিৎসা অনতিবিলম্বে শুরু করা গেলে রোগী বহু বছর সুস্থ জীবন অতিবাহিত করতে পারে।

# স্তন ক্যান্সার কিভাবে নির্ণয় করা যায়?
১. নিজেই স্তন পরীক্ষা করা: প্রত্যেক নারীর উচিত প্রতিমাসে অন্তত একবার স্তন নিজহাতে পরীক্ষা করা।
২. স্তনের ডাক্তারী পরীক্ষা: নিজে কোন অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করলে ক্লিনিক্যাল ব্রেস্ট এক্সামিনেশনের মাধ্যমে রোগ নির্ণয় বা ২-৩ বছর পর পর পরীক্ষা করানো।
৩. শারীরিক পরীক্ষায় সন্দেহজনক কিছু নির্ণয় হলে নিম্নলিখিত টেস্টগুলো করা হয়:
– আল্ট্রাসনোগ্রাফি
– ম্যামোগ্রাফি
– বায়োপসি

# স্তন ক্যান্সার নির্ণয় হলে তার চিকিৎসা কি?
– সার্জারি বা শল্যচিকিৎসা
– কেমোথেরাপি
– রেডিওথেরাপি
– হরমোন থেরাপি
– টার্গেটেড থেরাপি

# স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসা কি বাংলাদেশে হয়?
স্তন ক্যান্সারের সকল চিকিৎসা পদ্ধতিসমূহ বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে চলমান আছে।

# স্তন ক্যান্সার কিভাবে প্রতিরোধ করা যায়?
প্রাথমিক প্রতিরোধ:
১. বিয়ে ও প্রথম সন্তান গ্রহণ ৩০ বছরের মধ্যে সম্পন্ন করা
২.নিয়মিত ব্যায়াম করা
৩. পরিমিত পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা, চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করা, শাকসবজি – ফলমূল গ্রহণ করা
৪. শিশুকে বুকের দুধ পান করানো
৫. ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার করা।

দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রতিরোধ
সচেতনতার মাধ্যমে প্রাথমিক অবস্থায় স্ক্রিনিংয়ের প্রক্রিয়ায় রোগ সনাক্তকরণ ও দ্রুত চিকিৎসা, রোগীকে দীর্ঘসময় নীরোগ জীবন যাপনে সক্ষম রাখে।

#নিজ স্তন পরীক্ষা করার পদ্ধতি কি?
-প্রতিমাসে একবার – ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়ার ৪/৫ দিন পর বা ঋতুজরায় অবতীর্ণ নারীদের মাসের যেকোন নির্দিষ্ট সময়ে।
– ডান হাতে আঙ্গুল মেলে ধরে চেপে ক্রমান্বয়ে দুই স্তনের পরীক্ষা ও বগলের নিচে পরীক্ষা করতে হবে ও স্তনবৃন্ত চেপে পরীক্ষা করতে হবে।
১. গোসলের সময়- কোন চাকা অনুভব করা যায় কিনা।
২. আয়নার সামনে- ত্বকে পরিবর্তন, আকৃতির পরিবর্তন, স্তনবৃন্তে পরিবর্তন ইত্যাদি।
৩. বিছানায় শোয়া অবস্থায় পরীক্ষা।

লেখক: Dr. Tashnim Hossain. MBBS, MD(Radiation Onclogist)(জাতীয় ক্যান্সার গবেষনা হাসপাতাল )NICRH, Mohakhali. Dhaka। রোগী দেখেন – পপুলার ডায়াগনস্টিকস সেন্টার লি. যাত্রাবাড়ী শাখা, ০৯৬৬৬৭৮৭৮২২

প্রিন্ট করুন