Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ , ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৪ , ১২:১৪ অপরাহ্ণ

সাতক্ষীরায় ভুয়া ভুয়া স্লোগানে কেন্দ্রীয় সমন্বয়কদের সভাপণ্ড

লেখকঃ আজকালের কণ্ঠ

মিলন বিশ্বাস (সাতক্ষীরা): হৈ-হট্টোগোল করে ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিয়ে সাতক্ষীরায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছাত্র-জনতার মতবিনিময় সভা ভুন্ডল করে দিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রীয় সমন্বয়কদের উপস্থিতিতে দেশব্যাপী ছাত্র-জনতার মতবিনিময় সভার অংশ হিসেবে সাতক্ষীরায় ছাত্র জনতার মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহনে মতবিনিময় সভা শুরু হলেও বিশৃংঙ্খলায় তা পন্ডহয়ে যায়। সোমবার বিকেলে সাতক্ষীরা জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে এ ঘটনা ঘটে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাতক্ষীরা জেলার অন্যতম সমন্বয়ক নাজমুল হোসেন রনি জানান, শিল্পকলা একাডেমিতে বিকেলে ওয়াহিদুজ্জামান, আকরাম হোসেন রাজসহ কেন্দ্রীয় সমম্বয়কদের সাথে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের বৈঠক চলছিল। মঞ্চে বক্তব্য দিচ্ছিলেন কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক আকরাম হোসেন রাজ। এসময় জনি ও সানি নামের দুজন ছাত্র অডিটরিয়ামে বসা নিয়ে উচ্চ-বাচ্য করতে দেখা যায়। এমনকি তারা মঞ্চে তেড়ে আসে। কিছুক্ষণের মধ্যে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে বাইরে চলে যাওয়ার ঘোষণা দেন সানি। এসব হট্টগোলের মধ্যে বক্তব্য শেষ করেন রাজ।

নাম প্রকাশে অনেক অনিচ্ছুক উপস্থিত ছাত্ররা জানান, সবার শুধু এক পর্যায়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মঞ্চে উঠে মাইক হাতে বলতে শুরু করেন, সাতক্ষীরায় আন্দোল শুরু হওয়ার পর থেকে আমরা (ছাত্রদল) সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলাম, সাতক্ষীরা জেলায় কোন বৈষম্য চলবে না। যেসব ভাইয়েরা ঢাকা থেকে এসেছেন, আপনারা আমাদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করছেন। আজকের প্রোগ্রাম আমরা হতে দেবো না, অবিলম্বে আপনারা এই স্থান ছেড়ে চলে যান।

ছাত্ররা জানায়, মূহুর্তেই অডিটোরিয়ামটি উত্তল হয়ে ওঠলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্র আনতে মঞ্চে ওঠা মাত্রই ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিয়ে হৈ হট্টোগোল চিৎকার চেচামেচি শুরু করে। শিল্পকলার হল রুমে পরিপূর্ন থাকা শিক্ষার্থীরা এসময় যে যারমত আসন ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে। ফলে মূহুর্তে ভুন্ডল হয় ছাত্র-জনতার মতবিনিময় অনুষ্ঠানটি।

আরেক সমন্বয়ক ইমরান হোসেন বলেন, ‘স্বেচ্ছাসেবার কাজ করছে ছাত্রলীগের অনুপ্রবেশকারীর এমন অভিযোগে ছাত্রদলের কর্মীরা ভুয়া-ভুয়া স্লোগান দেয়। এ থেকে সভায় গণ্ডগোলের শুরু।’

তবে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শেখ শরিফুজ্জামান সজীবের দাবি, জনি ও সানি নামের ছাত্রদলের কোনো নেতা-কর্মী নেই। ছাত্রদলের কর্মী বলে যাদের পরিচয় দেওয়া হচ্ছে, এটা ষড়যন্ত্রমূলক। ছাত্রদলের কোনো নেতা-কর্মী আজকের সভায় উপস্থিত ছিলেন না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষার্থী বলেন, সাতক্ষীরার কয়েক সমম্বয়ককে বাদ দিয়ে অন্যদের নিয়ে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মতবিনিময় সভা হয়েছে। এর জের ধরে শিল্পকলা একাডেমিতে হট্টগোল শুরু হয়। ছাত্রদের একপক্ষ মঞ্চে উঠে মাইক হাতে বলতে শুরু করেন, সাতক্ষীরায় আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকে যারা সামনে থেকে আন্দোলন করছে, তাদের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে। তাই প্রোগ্রাম হতে দেওয়া হবে না। তাদেরকে প্রোগ্রাম বন্ধ করে ঢাকায় ফিরে যাওয়ার হুশিয়ারি দেন তারা। এরপর থেকে উত্তাল হয়ে উঠে পুরো অডিটরিয়াম। একে-অপরের সাথে হট্রগোলে জড়িয়ে পড়ে সভা পণ্ড হয়। পরে অডিটরিয়ামের সামনে মারপিটে জড়ান ছাত্রদের দু’গ্রুপ।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’

উল্লেখ্য: সভায় কেন্দ্রীয় ছয় সমন্বয়কেরপ্রতিনিধি হিসেবে মোঃ ওয়াহিদ উজ্জামান (ঢাবি), আকরাম হোসাইন রাজ (ঢাবি), আশরেফা খাতুন (ঢাবি), আবু বকর খান (জবি), ফারহানা ফারিনা (জাবি), মুইনুল ইসলাম (ঢাকা কলেজ), বিশ্বজিৎ দত্ত (খুবি), তৌহিদ ইসলাম শুভ (এন.ইউ.বি) মো বাবু খান (ডি. আই. ইউ), জান্নাত (বদরুন্নেসা কলেজ) উপস্থিত ছিলেন।

প্রিন্ট করুন