লন্ডন প্রবাসী ছাত্রলীগ নেতা, আব্দুল বাসেদের কচুয়া থানার প্রশন্নকাপ গ্রামের বাড়ীতে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেছ দুর্বৃত্তরা। এতে আব্দুল বাসেদের বাবা ও ভাই মারাত্মক ভাবে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
গতকাল ২০ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১০ টায় স্থানীয় বিএনপির সিনিয়র নেতা এহসানুল হক মিলনের সমর্থকগোষ্টি ও জামাতের স্হানীয় নেতাদের সহচার্যে জোরপূর্বক ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল বাসেদের বাড়িতে প্রবেশ করে এবং অকস্মাৎ আক্রমণ করে বাড়ীর আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এক পর্যায় আব্দুল বাসেদের বড় ভাই মোঃ শরিফ প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে মারধোর করে এবং অবশেষে একজন দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলে তিনি মারাত্মক আহত হন। এ সময় বাসেদের বাবা সন্তানকে বাচাঁতে আসলে তাকেও বেধড়ক পিটিয়ে আহত করা হয়। অবশেষে এলাকার লোক জড় হতে লাগলে, দুর্বৃত্তরা বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়ে দ্রুত প্রস্থান করে।
আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, আব্দুল বাসেদ, কচুয়া থানার প্রশন্নকাপ গ্রামের মোঃ জাফর হোসাইন ও জাহানারা বেগমের পঞ্চম সন্তান। আব্দুল বাসেদ বাংলাদেশে থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ছাত্র সংগঠন, বাংলাদেশ ছাত্র লীগের প্রশন্নকাপ শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন এবং তিনি সক্রিয় নেতা ছিলেন। এছাড়া তিনি কিশোরগঞ্জ-২ আসনের আওয়ামিলীগের সংসদ সদস্য, অ্যাডভোকেট শোহরাব উদ্দীনের ছোটমেয়ের জামাতা। তিনি দেশে থাকা অবস্থায় জামায়াত ও বিএনপির বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং আওয়ামিলীগ সরকারের অনেক ইস্যু বাস্তবায়নে সক্রীয় ছিলেন।
স্থানীয় লোকেরা জানান যে, আব্দুল বাসেদ ছাত্রলীগ নেতা হওয়ার কারণে তার পরিবার স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতা-কর্মীদের রোষানলে পড়েছেন। তিনি গত ২০২৪ সালের মে মাসে ইউকেতে পাড়ি জমান এবং স্ত্রীসহ লন্ডনে বসবাস করছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায় গতকাল প্রায় রাত ১০ টার দিকে একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসীবাহিনী বাসেদের বাড়িতে হানা দেয়। তখন বাড়িতে বাসেদের বাবা, মা ও ভাই-বোন ঘুমিয়ে পড়ায় দুবৃত্তরা এই সুযোগটা নিয়ে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে। প্রথমে দুর্বৃত্তরা বাড়ির আসবাসপত্র ভংচুর করে পরে বাসেদের ভাই শরীফকে বেধড়ক পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করে। বাসেদের বাবা সন্তানকে বাচাতে এগিয়ে আসলে তিনিও মারাত্মভাবে প্রহৃত হন এবং আহত হোন। দুর্বৃত্তদের প্রস্থান কালে ঘরের ভিতরে আগুন জ্বালিয়ে দেয় এবং বাসেদের বাবাকে এই বলে হুমকি দিয়ে যায় যে বাসেদকে দেখা মাত্র গুলি করে হত্যা করা হবে।
বাসেদের এক আত্মীয়, রহীম উদ্দীন আমাদেরকে জানান, গত ১০ আগস্ট ২০২৪ তারিখে আনুমানিক রাত ১১.৩০ টার সময় একদল দুর্বৃত্ত বাসেদ এর বাড়িতে হামলা চালায় এবং বাড়ির মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। গতকাল ২০ অক্টোবর এহসানুল হক মিলনের সমর্থকগোষ্টি আবারো বাসেদের বাড়িতে হামলা চালায় এবং হামলার সময় বাসেদের ভাই-বোন পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও তার বাবা ও ভাই দুর্বৃত্তদের হাতে মারাত্মক ভাবে আহত হন। দুর্বৃত্তরা বাসেদের মা ও বোনের মূল্যবান গহনা সহ অনেক মূল্যবান জিনিস লুটকরে নিয়ে যায় এবং অবশেষে বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হলেও অনেক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়। জানা গেছে বাসেদের বাবা ও ভাইকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সাবেক মেম্বর, মোঃ মোকলেচুর রহমান জানান বাসেদ ছাত্রলীগের সক্রীয় সদস্য ও নেতা থাকায় এলাকার বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের সাথে তার বড় ধরনের শত্রুতাছিল। ফলে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশ ত্যাগের পরবর্তীতে অনেক আওয়ামীলীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা হামলার শিকার হন। এরই ধারাবাহিকতায় বাসেদের বাড়িতে হামলার ঘটনা ও অগ্নিসংযোগের মত ঘটনা ঘটে।
এলাকার মুদি দোকানদার বজলুর রহমান আমাদের সংবাদদাতাকে জানান, বাসেদ লন্ডন থেকে শেখ হাসিনা ও আওয়ামীলীগের পক্ষে সোস্যাল মিডিয়ায় নানাবিদ পোস্ট করে থাকেন। ফলে এলাকার বিএনপির নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বাসেদের বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করেন তিনি।
এলাকার একজন জনপ্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বাসেদ দেশে থাকা অবস্থায় আওয়ামীলীগের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের নেতা থাকা কালীন বিএনপি ও জামায়াতের অনেক নেতা-কর্মীর সাথে বৈরি সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তিনি বিএনপি ও জামায়াতের বিরুদ্ধে রাজনীতির মাঠে সোচ্চার ছিলেন। এরই জের ধরে এই হামলা হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
ক্ষমতাচুত্য স্থানীয় চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করতে চেষ্টা করেও আমাদের প্রতিনিধি যোগাযোগ করতে পারেনি। আমাদের প্রতিনিধি স্থানীয় কচুয়া থানায় যোগাযোগ করলে কর্তব্যরত পুলিশ পরিদর্শক এ ব্যাপারে কিছু জানেন না বলে জানান।