মিলন বিশ্বাস ( সাতক্ষীরা) : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে গত কয়েকদিন ধরে সাতক্ষীরায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। যা চলতি বছরে বৃষ্টিপাতের সর্বোচ্চ রেকর্ড। গত শুক্রবার সকাল থেকে রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত সাতক্ষীরায় ১’শ ৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টিপাতে অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া অফিস বলছে সোমবার বিকাল থেকে স্বাভাবিক হতে পারে বৃষ্টিপাত।
সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। শুক্রবার সকাল থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত সাতক্ষীরায় ১’ ৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যা চলতি বছরের সবথেকে বেশি বৃষ্টিপাত। সোমবার দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টিপাত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে পানি বন্দী হয়েছে কয়েক হাজার মানুষ। বৃষ্টিপাতের কারনে পুলিশ লাইন্সে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া শহরের রাজার বাগান, মুন্সীপাড়া, মুনজিতপুর, রসুলপুর, বদিপুর কলোনি, ইটাগাছাসহ বিভিন্ন এলাকায় মানুষ পারিবন্দী রয়েছে।
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ মাঠসংলগ্ন এলাকার মিজানুর রহমান বলেন, বৃষ্টিতে কলেজ মাঠসহ কলেজ-পুরাতন সাতক্ষীরা সড়ক তলিয়ে গেছে। একে তো সড়কটি চলাচলের অযোগ্য, তার ওপর বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চলাচলে মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন মানুষজন। বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এমন অবস্থা যে, চলাচল করতে গিয়ে মানুষ দুর্ঘটনার শিকারও হতে পারেন। নর্দমার পানি এত নোংরা যে, পানি মাড়িয়ে রাস্তা পার হলে পায়ে চুলকানি হয়ে যাচ্ছে সঙ্গে সঙ্গে।
রসুলপুর এলাকার আজিজুল ইসলাম ইমরান জানান, তাদের এলাকাতেও পানি জমে গেছে। ড্রেন বন্ধ হয়ে আছে। নিষ্কাশনের কোনো পথ নেই। রাস্তার ওপর পানি জমেছে। প্রতিবছরই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়। পৌর কর্তৃপক্ষের যেন কোনো দায় নেই!
সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডে-২ এর নিবার্হী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে যেসব এলাকায় জোয়ার ভাটার ব্যবস্থা নেই সেসব এলাকায় দুই ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোন বাঁধ বৃষ্টিপাতের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৃষ্টিপাতের কারনে কোন বাঁধে সমস্যা সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি।