টেকনাফ প্রতিনিধি : মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি ও সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের কারণে মর্টার শেল ও গোলার বিকট শব্দ ভেসে আসছে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গতকাল শনিবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যায়, বাংলাদেশ সীমান্তের ওপারে মংডু শহরের সুদাপাড়া গ্রামে আগুনের কুণ্ডলী দেখা যায়।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল সকালে মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি ও সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ চলে।
টেকনাফ পৌরসভা ও সাবরাংয়ের সীমান্তে ভারী গোলার শব্দ পাওয়া গেছে। সংঘর্ষের ফলে মায়ানমার থেকে অনুপ্রবেশের আশঙ্কা থাকলেও প্রশাসন ও বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের (বিজিবি) তৎপরতায় তা হয়নি।
আব্দু রসিদ নামে একজন আজকালের কন্ঠ’কে বলেন, ‘বিকেলে পুরাতন ট্রানজিট ঘাটে ঘুরতে গিয়েছিলাম। হঠাৎ পূর্ব দিক থেকে মর্টার শেলের বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে চারপাশ। কিছুক্ষণ পর মায়ানমারে আগুনের কুণ্ডলী দেখা যায়।’ সীমান্তে গোলার বিকট শব্দ শোনা গেছে ।
উল্লেখ্য করে টেকনাফ পৌরসভার জালিয়াপাড়ায় বসবাসকারী সামি জাবেদ বলেন, ‘কয়েক দিন আগে ভারী মর্টার শেলের শব্দে কাঁপে টেকনাফ সীমান্ত এলাকা। মাঝখানে কয়েক দিন বন্ধ থাকলেও গতকাল বিকেলে কয়েক মিনিট পরপর এমন শব্দ হয়। তবে নাফ নদী সীমান্তে রাত-দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে টহল দিয়ে যাচ্ছেন।
‘এ বিষয়ে টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘আজ সীমান্তের বিভিন্ন জায়গায় গোলাগুলির শব্দ কম ছিল। তবে নতুন করে যাতে কেউ সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি।’ এদিকে মায়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান আর্মির সঙ্গে দেশটির সেনাবাহিনীর তুমুল সংঘর্ষ চলছে। টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং থেকে শাহপরীরদ্বীপ পর্যন্ত ৫৪ কিলোমিটার নাফ নদীতে বিজিবি ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সদস্যরা দিন-রাত টহল বাড়িয়েছেন। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সব সময় প্রস্তুত বিজিবি ও কোস্টগার্ড।