Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ৬:৩৫ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ জুলাই ১০, ২০২৪ , ১২:৫৩ অপরাহ্ণ

মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কে ম্যানেজ করে চলছে নিয়োগ-বাণিজ্য

লেখকঃ আজকালের কণ্ঠ

নিজস্ব প্রতিবেদক :- বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলাধীন ১৩ নং পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের বড় রঘুনাথপুর গ্রামে অবস্থিত রঘুনাথপুর দেশান্তর কাঠি ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জন্য এবং সৃষ্ট পদে ১জন, পরিছনতা কর্মী ১জন আয়া ১জন সহ মোট চারজনকে নিয়োগ দেয়া হবে মর্মে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ স্কুলে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কাউকে কোন কিছু না বলে ঈদুল আযহার বন্ধের মধ্যে গোপনে পত্রিকায় বিজ্ঞাপনটি দেয়া হয়। যাতে করে প্রধান শিক্ষক তার নিজ পছন্দের ব্যক্তিদের ওই পদ গুলোতে নিয়োগ দিতে পারে। গত ২ জুলাই ছিল আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করাটা ছিল একটি কৌশল মাত্র।

কৌশল অবলম্বনে নিয়োগ বাণিজ্যের পিছনে হাত রয়েছে বাকেরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার তপন কুমার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের প্রধান হিসাবরক্ষক নাছির উদ্দিনের। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে আবেদন বাছাই কমিটি হওয়ার আগেই যাদের নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং যাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন তাদেরকে বলা হয়েছে,যে টাকা নেওয়া হয়েছে ও টাকা আমরা খাব না।

এই টাকা বাকেরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার তপন কুমার স্যারকে এবং জেলা শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর স্যারকে দিতে হবে। এই দুই শিক্ষা কর্মকর্তার নামে তারা টাকাগুলো হাতিয়ে নেয়। বিদ্যালয়টির বর্তমান প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে যে সমস্ত ব্যক্তির নিকট থেকে টাকা নিয়েছেন।

তারা হলেন সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে আবেদনকারী মোঃ সোহাগ মৃধা, পিতা মোঃ ইউসুফ আলী মৃধা, তার কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়। সৃষ্ট পদে আবেদনকারী মোঃ কুদ্দুস হাওলাদার, পিতা মোহাম্মদ মানিক হাওলাদার (মুসল্লী) এর কাছ থেকে নেয়া হয়েছে পাঁচ লক্ষ টাকা, পরিছন্নতা কর্মী পদে আবেদনকারী আব্দুর রহিম,পিতাঃ মোঃ লাল মিয়া হাওলাদার এর কাছ থেকে নেয়া হয়েছে চার লক্ষ টাকা।

আয়া পদে আবেদনকারী সুজনা আক্তার, স্বামী মোঃ সোহাগ এর কাছ থেকে নেয়া হয়েছে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা। এসব টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমানের নাম পাওয়া গেছে। সূত্র মতে জানা গেছে বর্তমান প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান আগামী ১৪ আগষ্ট ২০২৪ তারিখে চাকরি থেকে অবসরে যাবেন।

তাই তড়িঘড়ি করে স্থানীয়দের না জানিয়ে গোপনে পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন। যে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েছেন সেই পত্রিকাটি বাকেরগঞ্জে পাওয়া যায় না। তার প্রধান উদ্দেশ্য অবসরে যাওয়ার আগে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া। এই বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর ফোন কেটে দেন।

বাকেরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের প্রধান হিসাব রক্ষক নাসির উদ্দিনের সাথে ফোনে কথা বললে তিনি জানান, নিয়োগ দেওয়ার জন্য অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি আমরা অবগত নই, তবে অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

প্রিন্ট করুন