
সরকারি কার্যালয় কি ব্যক্তিগত আনন্দ-উৎসব উদ্যাপনের স্থান? কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে কর্মদিবসে জন্মদিন উদ্যাপনের ছবি প্রকাশের পর এমন প্রশ্নই উঠেছে স্থানীয় সচেতন মহলে।
অধস্তন কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষকদের নিয়ে সরকারি অফিসে কেক কেটে জন্মদিন পালনের ঘটনায় শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।
সম্প্রতি নিজের ফেসবুক আইডিতে জন্মদিন উদ্যাপনের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নার্গিস ফাতেমা তোকারদার। একটি ছবিতে নিজ কার্যালয়ে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রাশেদুল হক মণ্ডলকে কেক খাইয়ে দিতে দেখা যায় তাঁকে। অন্য ছবিতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের উপস্থিতিও দেখা গেছে।
ছবির সঙ্গে দেওয়া পোস্টে তিনি লেখেন, ‘সপ্তাহের প্রথম দিন ভীষণ কাজের চাপ। তার মধ্যে এসেছে পিটিআই ফেরত আমার প্রিয় শিক্ষকগণ আমার জন্মদিন পালন করার জন্য। ওরা মনে করিয়ে দিল আমার আর ৩৬৪ দিন রিজিক আছে কর্মজীবনে যদি বেঁচে থাকি।’
পোস্টের অন্য অংশে তিনি লেখেন, ‘তোমরা তোমাদের যে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় আমায় সিক্ত করেছো, ঠিক তেমনি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত করবে তোমাদের উত্তরসূরীরা।’
জানা গেছে, গত রোববার, ১ নভেম্বর,২০২৬ইং ছিল ওই শিক্ষা কর্মকর্তার ৫৮তম জন্মদিন। এ উপলক্ষে তাঁর সরকারি কার্যালয়ে কয়েকজন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী কেক কেটে জন্মদিন উদ্যাপন করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, ছবিতে উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তা ওই শিক্ষা কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। কর্মদিবসে সরকারি কার্যালয়ে ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান আয়োজন এবং দাপ্তরিক সময়ের মধ্যে এমন উদ্যাপন কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে স্থানীয়ভাবে প্রশ্ন উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরও নিজের জন্মদিন উদ্যাপনের একাধিক ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করেছিলেন ওই কর্মকর্তা। ফলে সরকারি কার্যালয়ে ব্যক্তিগত আয়োজনের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নার্গিস ফাতেমা তোকারদারের কাছে জানতে চাইলে প্রথমে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে ছবি ও তথ্য-প্রমাণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার শিক্ষকেরা ছোট একটি কেক এনে আমার অফিসে কেটেছেন মাত্র। তাঁরা দুই মিনিটও সেখানে ছিলেন না।’
কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় চৌধুরী বলেন, ‘এমন ছবি আমিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি। তবে অফিসে কেক কাটা ঠিক হয়নি। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এটিএম আরিফ বলেন, ‘বিষয়টি আমি জেনেছি। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
সরকারি কার্যালয় জনগণের সেবার জন্য নির্ধারিত। সেখানে কর্মঘণ্টায় ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান আয়োজনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্নের পাশাপাশি বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :