
নওগাঁ সদর থানাধীন এলাকায় পুরাতন মোবাইল ও ইলেকট্রনিকস ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে নওগাঁ জেলা পুলিশ। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্ত জয়নুল ও আশরাফুলকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় নিহতের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। আরও একজন অভিযুক্ত পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুন সকালে নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোবাইল ফোনে খবর পান যে বারোমাসি বিলে কচুরিপানার নিচে একটি মরদেহ ভাসছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে মরদেহটি শফিকুল ইসলাম (৩৫) নামে এক ব্যক্তির বলে শনাক্ত করা হয়। তিনি জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর এলাকার বাসিন্দা এবং পুরাতন মোবাইল ও ইলেকট্রনিকস পণ্যের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ছিলেন।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, শফিকুল ইসলাম নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় গত ৯ জুন নওগাঁ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। পরিবারের সদস্যরা জানান, ব্যবসায়িক কাজে বের হওয়ার পর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। এরপর থেকেই পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করে।
মামলা দায়েরের পর পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম), সদর থানার ওসি এবং অন্যান্য সদস্যদের সমন্বয়ে একটি তদন্ত দল গঠন করা হয়। গোপন তথ্য, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং বিভিন্ন সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে জয়নুলকে নওগাঁ শহর থেকে এবং আশরাফুলকে মান্দা উপজেলা থেকে গ্রেফতার করা হয়। জয়নুলের কাছ থেকে নিহতের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত শফিকুল ইসলামের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল অভিযুক্তদের। গত ৮ জুন তারা একসঙ্গে ভীমপুর কলেজ মোড় এলাকায় মিলিত হন। পরে বারোমাসি বিলের পাথরঘাটা ব্রিজ এলাকায় নিয়ে গিয়ে শফিকুল ইসলামকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের কাছে তারা জানিয়েছেন।
পুলিশ আরও জানায়, হত্যার পর মরদেহটি বিলে ফেলে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। এ সময় নিহতের মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ নিয়ে নেওয়া হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
নওগাঁ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত পলাতক অপর আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্তও চলমান রয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পেছনে আর্থিক লেনদেন ও সম্পদ আত্মসাতের উদ্দেশ্য থাকতে পারে। তবে বিষয়টি তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নওগাঁ জেলা পুলিশ বলেছে, যেকোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তারা কাজ করে যাচ্ছে।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :