
একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাস এবং সাংবিধানিক পরিক্রমা সবসময়ই বস্তুনিষ্ঠ উপাত্ত এবং ঐতিহাসিক সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত হওয়া বাঞ্ছনীয়। ক্ষমতার পালাবদল, রাজনৈতিক মেরুকরণ কিংবা মতাদর্শিক ভিন্নতার কারণে অনেক সময় ইতিহাসের মৌলিক সত্যগুলো আড়ালে পড়ে যায়। তবে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের তত্ত্ব ও তথ্যের কষ্টিপাথরে বিশ্লেষণ করলে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতার ইতিহাসে দুটি অনন্য ও ঐতিহাসিক সত্য অত্যন্ত স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রথমত, ১৯৭৮ সালের ৩ জুনের পূর্বে বাংলাদেশে কোনো সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকার প্রধান ছিলেন না; ব্যালট ও প্রতীকের যুগান্তকারী সমীকরণে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানই বাংলাদেশের প্রথম প্রত্যক্ষ বা সর্বজনীন ভোটাধিকারে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থার শীর্ষবিন্দুতে (রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী) আসীন ব্যক্তিদের মধ্যে একমাত্র তিনিই ছিলেন ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখসমরের এক বীর সেনানী, সেক্টর কমান্ডার এবং সামরিক ব্রিগেড ‘জেড ফোর্স’-এর অধিনায়ক।
ঐতিহাসিক উপাত্ত, সাংবিধানিক প্রেক্ষাপট ও রাষ্ট্রবৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই দুটি অনস্বীকার্য সত্যের একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও একাডেমিক রূপরেখা এখানে বিশ্লেষণ করা হলো।
১৯৭৮ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের প্রথম উন্মেষ
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞা অনুযায়ী, একটি নির্বাচিত সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধানের বৈধতা আসে সরাসরি জনগণের ম্যান্ডেট বা ইউনিভার্সাল সাফ্রেজ (Universal Suffrage)-এর মাধ্যমে। ১৯৭১ সাল থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের শাসনতান্ত্রিক কাঠামো লক্ষ্য করলে দেখা যায়, এই দীর্ঘ সময়ে কোনো রাষ্ট্রপ্রধানই জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হননি।
১৯৭৮ সালের ৩ জুন বাংলাদেশে প্রথমবার প্রত্যক্ষ রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের ঐতিহাসিক ঘটনাটি ঘটে। এই নির্বাচনে ‘জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট’-এর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তৎকালীন সেনাপ্রধান ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক জেনারেল জিয়াউর রহমান। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল (অব.) এম. এ. জি. ওসমানী (গণতান্ত্রিক ঐক্য জোট)।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের তৎকালীন প্রাতিষ্ঠানিক উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে এই নির্বাচনের চিত্রটি স্পষ্ট হয়:
মোট ভোটার উপস্থিতি: ৫৪.২৭%।
বিপুল বিজয়: তিনি মোট প্রদত্ত ভোটের ৭৬.৬৩ শতাংশ (১,৫৭,৩৩,৮০৭ ভোট) পেয়ে এক নিরঙ্কুশ জয় লাভ করেন।
নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী: জেনারেল (অব.) এম. এ. জি. ওসমানী পান মাত্র ২১.৭০ শতাংশ (৪৪,৫৫,২০০ ভোট)।
একাডেমিক দৃষ্টিকোণ থেকে, এই নির্বাচনটি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম কোনো সাধারণ নির্বাচন, যেখানে দেশের আমজনতা ব্যালট পেপারের মাধ্যমে সরাসরি তাদের সর্বোচ্চ নির্বাহী বা রাষ্ট্রপ্রধানকে বেছে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন।
সাংবিধানিক রূপান্তর ও আইনি কাঠামো
১৯৭৮ সালের নির্বাচনের এই বিপুল জনসমর্থনের ভিত্তিটি কিন্তু রাতারাতি তৈরি হয়নি। এর পেছনে ছিল একটি সুনির্দিষ্ট সাংবিধানিক ও আইনি রূপান্তর। ১৯৭৫ সালের সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে বহুদলীয় সংসদীয় শাসনব্যবস্থা রদ করে একদলীয় ‘বাকশাল’ ব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রপতির পরোক্ষ ও মনোনীত পদের যে আইনি কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল, জিয়াউর রহমান তা ভেঙে দেওয়ার উদ্যোগ নেন। তিনি ১৯৭৮ সালের নির্বাচনের আগে “The Presidential Election Ordinance, 1978” জারির মাধ্যমে বহুদলীয় প্রতিযোগিতামূলক প্রত্যক্ষ নির্বাচনের আইনি পথ উন্মুক্ত করেন।
এর ঠিক এক বছর আগে, ১৯৭৭ সালের ৩০ মে তিনি একটি ‘গণভোট’ (Referendum) অনুষ্ঠান করেছিলেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে, সেটি ছিল তাঁর নীতি ও ১৯ দফার প্রতি জনগণের আস্থা যাচাই, যেখানে ৮৮.৫% ভোটার উপস্থিতিতে ৯৮.৯% ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছিল। এই গণভোটের রাজনৈতিক আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করেই ১৯৭৮ সালে একটি পূর্ণাঙ্গ ও বহুদলীয় প্রত্যক্ষ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের আইনি ও নৈতিক ভিত্তি তৈরি হয়।
পূর্ববর্তী রাষ্ট্রপ্রধানদের শাসনতান্ত্রিক প্রেক্ষাপট
প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসনভার গ্রহণের পূর্ববর্তী অধ্যায়গুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তৎকালীন রাষ্ট্রপ্রধানদের দায়িত্ব লাভের প্রক্রিয়াটি প্রত্যক্ষ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অনুগামী ছিল না:
শেখ মুজিবুর রহমান (প্রথম মেয়াদ, ১৯৭১-১৯৭২): ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠনের মাধ্যমে ‘স্বাধীনতার ঘোষণা’ (Proclamation of Independence)-এর আইনি কাঠামো অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রপতি মনোনীত হন। এটি ছিল একটি বিপ্লবী ও যুদ্ধকালীন অস্থায়ী ব্যবস্থা।
সৈয়দ নজরুল ইসলাম (ভারপ্রাপ্ত, ১৯৭১-১৯৭২): রাষ্ট্রপতির অনুপস্থিতিতে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অনুযায়ী উপ-রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি অস্থায়ী বা ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন।
বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী ও মোহাম্মদ মোহাম্মদউল্লাহ (১৯৭২-১৯৭৫): ১৯৭২ সালের অস্থায়ী সংবিধান আদেশ ও ১৯৭৩ সালের সংসদীয় পদ্ধতির অধীনে তারা যথাক্রমে অধ্যাদেশ ও সংসদ সদস্যদের ভোটে (পরোক্ষ নির্বাচন) অলংকারিক রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব লাভ করেন।
শেখ মুজিবুর রহমান (দ্বিতীয় মেয়াদ, ১৯৭৫): ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর বিশেষ আইনি বিধানের (চতুর্থ তফশিল) মাধ্যমে কোনো প্রকার সাধারণ নির্বাচন বা সংসদীয় ভোট ছাড়াই সরাসরি রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
খন্দকার মোশতাক আহমদ ও বিচারপতি এ. এস. এম. সায়েম (১৯৭৫-১৯৭৭): ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের নির্মম ও ট্রাজিক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের পর খন্দকার মোশতাক সামরিক সমর্থনে স্বঘোষিতভাবে এবং পরবর্তীতে নভেম্বরের অভ্যুত্থান-পাল্টা অভ্যুত্থানের অমীমাংসিত প্রেক্ষাপটে প্রধান বিচারপতি সায়েম সামরিক অধ্যাদেশের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদ গ্রহণ করেন।
অতএব, শাসনতান্ত্রিক এই দীর্ঘ পথপরিক্রমায় প্রমাণিত হয় যে, পূর্ববর্তী কোনো রাষ্ট্রপ্রধানই সরাসরি গণরায়ের মুখোমুখি হননি। একমাত্র প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানই প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক বৈধতা অর্জনের জন্য সরাসরি জনগণের ভোটের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।
মটরসাইকেল বনাম নৌকা: প্রতীকের মনস্তাত্ত্বিক রাজনীতি
১৯৭৮ সালের নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর মেরুকরণের পাশাপাশি প্রতীক বরাদ্দের ক্ষেত্রে একটি গভীর মনস্তাত্ত্বিক উপাত্ত লক্ষ্য করা যায়। এই নির্বাচনে জিয়াউর রহমানের নির্বাচনী প্রতীক ছিল ‘মোটরসাইকেল’। অন্যদিকে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জেনারেল (অব.) এম. এ. জি. ওসমানীর প্রতীক ছিল ‘নৌকা’ (যেহেতু আওয়ামী লীগসহ প্রগতিশীল দলগুলো ‘গণতান্ত্রিক ঐক্য জোট’ গঠন করে তাঁকে সমর্থন দিয়েছিল)।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে, তৎকালীন বাংলাদেশের গ্রামীণ ও শহরতলির তরুণ সমাজের কাছে ‘মোটরসাইকেল’ প্রতীকটি গতি, আধুনিকতা, তারুণ্য এবং দ্রুত উন্নয়নের একটি মনস্তাত্ত্বিক রূপক হিসেবে কাজ করেছিল, যা তৎকালীন স্থবির রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক ধরণের নতুনত্বের জোয়ার এনেছিল।
সম্মুখসমরের সেক্টর কমান্ডার থেকে রাষ্ট্রনায়ক: এক অনন্য খতিয়ান
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের আরেকটি অকাট্য সত্য হলো, স্বাধীনতার পর থেকে অদ্যাবধি রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষাসনে (প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী) যারা অধিষ্ঠিত হয়েছেন, তাদের মধ্যে একমাত্র মেজর জিয়াউর রহমানই ছিলেন অস্ত্রহাতে লড়াই করা প্রত্যক্ষ ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’।
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত আক্রমণের মুখে চট্টগ্রামের কালুরঘাট থেকে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক বিদ্রোহ ঘোষণা (“We Revolt”) এবং পরবর্তী স্বাধীনতা ঘোষণা কিংকর্তব্যবিমূঢ় জাতিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছিল। তাত্ত্বিক ও কৌশলগতভাবে তিনি কেবল একজন ঘোষকই ছিলেন না, বরং রণাঙ্গনে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করা সামরিক অধিনায়ক ছিলেন।
সামরিক প্রাতিষ্ঠানিক দিক থেকে তাঁর কিছু একক রেকর্ড রয়েছে যা বাংলাদেশের আর কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের নেই:
প্রথম নিয়মিত ব্রিগেড গঠন: ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে রণাঙ্গনে বাংলাদেশের প্রথম নিয়মিত সশস্ত্র সামরিক ব্রিগেড **‘জেড ফোর্স’ (Z-Force)** গঠিত হয় তাঁর নেতৃত্বে। তিনি একই সাথে ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের ১ নম্বর সেক্টরের প্রথম কমান্ডার।
সরাসরি ব্যাটলফিল্ড কমান্ড: রণাঙ্গনে রাজনৈতিক নেতারা মূলত নীতি ও কৌশল নির্ধারণ করেছেন, কিন্তু জিয়াউর রহমান নিজে ‘অপারেশন ১/১’ (চট্টগ্রাম), ‘ধামাই চা বাগান আক্রমণ’ এবং ‘কামালপুর যুদ্ধ’-এর মতো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও রক্তক্ষয়ী সম্মুখসমরগুলোর সরাসরি ফিল্ড কমান্ডার ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে এই অসামান্য বীরত্বের ঐতিহাসিক স্বীকৃতিস্বরূপ স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় গেজেটের মাধ্যমে তাঁকে জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সর্বোচ্চ সামরিক সম্মাননা “বীর উত্তম” খেতাবে ভূষিত করা হয়।
ঐতিহাসিক তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশের অন্য কোনো সরকার প্রধান বা রাষ্ট্রপ্রধান সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে অস্ত্রহাতে লড়াই করা বা সামরিক ইউনিট কমান্ড করা খেতাবপ্রাপ্ত ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ ছিলেন না। শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের অবিসংবাদিত জাতীয় রাজনৈতিক নেতা হলেও ১৯৭১ সালের পুরোটা সময় তিনি পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি ছিলেন, যার ফলে রণাঙ্গনে সরাসরি সামরিক অধিনায়ক হিসেবে ভূমিকা রাখার সুযোগ তাঁর ছিল না। পরবর্তীকালের রাজনৈতিক বা সামরিক শাসকেরা কেউই সম্মুখসমরের খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না।
ওসমানী-জিয়া দ্বৈরথ: চেইন অব কমান্ডের গণতান্ত্রিক রূপান্তর
রণাঙ্গনের একমাত্র মুক্তিযোদ্ধা শাসক হিসেবে জিয়াউর রহমানের ভূমিকার পাশাপাশি ১৯৭৮ সালের নির্বাচনের এই দ্বৈরথটি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের “Civil-Military Relations” (সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক)-এর জন্য একটি অনন্য অধ্যায়। ১৯৭১ সালে জেনারেল ওসমানী ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক (C-in-C), আর মেজর জিয়া ছিলেন তাঁর অধীনে একজন সেক্টর কমান্ডার।
মাত্র ৭ বছরের ব্যবধানে, ১৯৭৮ সালে সেই সাবেক প্রধান এবং তাঁর অধীনস্ত সেনা কর্মকর্তা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ট্র্যাকে—গণতান্ত্রিক ব্যালট যুদ্ধে—একে অপরের মুখোমুখি হন। এটি বিশ্বের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল, যেখানে মুক্তিযুদ্ধের সর্বোচ্চ দুই সামরিক ব্যক্তিত্ব ব্যালটের মাধ্যমে জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়ার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে, তৎকালীন রাজনীতিতে সামরিক পরিচিতির চেয়েও “মুক্তিযুদ্ধের লিগ্যাসি” বা উত্তরাধিকার কত বড় নিয়ামক ছিল।
তত্ত্বের আলোয় জিয়াউর রহমান
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের কাঠামোগত তত্ত্ব (Structural Functionalism) এবং উত্তর-ঔপনিবেশিক রাজনৈতিক তত্ত্ব (Third World Politics) অনুযায়ী, জিয়াউর রহমানের এই নির্বাচিত হওয়ার প্রক্রিয়াটি ডিক্লোনিয়াজেশন বা উপনিবেশ-উত্তর এশিয়া ও আফ্রিকার কিছু দেশের প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার সাথে মিলে যায়। যেখানে একজন ক্যারিশম্যাটিক সামরিক বীর প্রথমে সংকটের মুখে ক্ষমতার কেন্দ্রে আসেন (De facto), এবং পরবর্তীতে একটি বেসামরিক রাজনৈতিক দল (এক্ষেত্রে বিএনপি) গঠন করে সম্পূর্ণ বেসামরিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় (De jure) রূপান্তরিত হন। এই তাত্ত্বিক রূপান্তরটি তাঁর “প্রথম প্রত্যক্ষ ভোটাধিকারে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি” হওয়ার দাবিটিকে একাডেমিক মহলে সুপ্রতিষ্ঠিত করে।
ইতিহাস কোনো আবেগ বা রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব দিয়ে রচিত হয় না; ইতিহাস টিকে থাকে তথ্যের সত্যতায়। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রাতিষ্ঠানিক ডিসকোর্স এবং বাংলাদেশের সাংবিধানিক দলিলসমূহ পর্যালোচনা করলে এটি দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে—শহীদ প্রেসিডেন্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রথম সরাসরি গণভোটে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি এবং একমাত্র সম্মুখসমরের বীর উত্তম খেতাবধারী মুক্তিযোদ্ধা রাষ্ট্রনায়ক। জাতীয় ইতিহাসের সঠিক মূল্যায়ন এবং আগামী প্রজন্মের রাজনৈতিক জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করার স্বার্থেই এই একাডেমিক সত্যের বস্তুনিষ্ঠ চর্চা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
আপনার মতামত লিখুন :