৫ মাসে ২৪ দিন ছুটি: ডিআইজি আতাউল কিবরিয়াকে ঘিরে প্রশ্নের ঝড় | Daily AjKaler Kontho

৫ মাসে ২৪ দিন ছুটি: ডিআইজি আতাউল কিবরিয়াকে ঘিরে প্রশ্নের ঝড়


ময়মনসিংহ ব্যুরো চীফ প্রকাশের সময় : মে ৫, ২০২৬, ৮:০২ অপরাহ্ন
৫ মাসে ২৪ দিন ছুটি: ডিআইজি আতাউল কিবরিয়াকে ঘিরে প্রশ্নের ঝড়

ময়মনসিংহে সরকারি দায়িত্ব পালনের চেয়ে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে কিনা—এমন প্রশ্ন উঠেছে রেঞ্জ ডিআইজি আতাউল কিবরিয়াকে ঘিরে। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই তিনি মোট ২৪ দিন কর্মস্থলের বাইরে থাকায় জনমনে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা ও সমালোচনা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ডিআইজি আতাউল কিবরিয়া ১৯ দিন প্রিভিলেজ লিভ (পিএল) এবং ৫ দিন ক্যাজুয়াল লিভ (সিএল) ভোগ করেছেন। ছুটির এই পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রায় প্রতি মাসেই উল্লেখযোগ্য সময় তিনি দায়িত্বের বাইরে ছিলেন।

ছুটির খতিয়ান:
তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে ৩ দিন, ফেব্রুয়ারিতে ৫ দিন এবং মার্চে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা ৭ দিন ছুটিতে ছিলেন তিনি। এরপর এপ্রিল ও মে মাসেও একাধিক দফায় ছুটি নেন। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে—একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা যদি বছরের শুরুতেই দীর্ঘ সময় কর্মস্থলের বাইরে থাকেন, তবে প্রশাসনিক কার্যক্রম ও তদারকি কতটা প্রভাবিত হয়।

সরকারি গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগ:
এছাড়া, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ৭ দিনের নৈমিত্তিক ছুটি নিয়ে রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে সপরিবারে ভ্রমণের সময় সরকারি গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ব্যক্তিগত কাজে সরকারি যানবাহন ব্যবহার করা অনিয়ম হিসেবে বিবেচিত হয়। এ বিষয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অভিযোগ:
এদিকে, গত নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনে তার পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্টতা নিয়েও কিছু মহলে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা যাচাই সাপেক্ষ।

জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন:
বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অতিরিক্ত ছুটি গ্রহণ ও সরকারি সুবিধা ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ মাঠপর্যায়ের সদস্যদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং প্রশাসনের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

এ বিষয়ে ডিআইজি আতাউল কিবরিয়ার বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।উল্লেখিত ঘটনাগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।

আজকালের কন্ঠ/আর বি