সাবেক এমপি রানা সোহেলের বিরুদ্ধে কুয়াকাটায় জমির প্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগ | Daily AjKaler Kontho

সাবেক এমপি রানা সোহেলের বিরুদ্ধে কুয়াকাটায় জমির প্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগ


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২৬, ২০২৫, ৫:২৪ অপরাহ্ন
সাবেক এমপি রানা সোহেলের বিরুদ্ধে কুয়াকাটায় জমির প্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগ

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা : পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় জাতীয় পার্টির (জাপা) সাবেক সংসদ সদস্য রানা মো. সোহেলের বিরুদ্ধে জমির সীমানা প্রাচীর ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (২২ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১টার দিকে, কুয়াকাটার সিকদার রিসোর্ট অ্যান্ড ভিলাস সংলগ্ন এলাকায়, সায়েদুর রহমান নামের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন জমিতে।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, সায়েদুর রহমান ১৯৯৯ সালে মো. নূর হোসেন ও মো. আ. কাদেরের কাছ থেকে লতাচাপলী মৌজার এসএ খতিয়ানভুক্ত জমি (জে.এল ৩৪, দাগ ৬৩২১) ক্রয় করেন। পরে বিএস জরিপে তার নামে রেকর্ডভুক্ত হয় (জে.এল ৫৭, খতিয়ান ৯৭৬, দাগ ৪২১৩)। দীর্ঘদিন ধরে তিনি জমিটি দখল ও ভোগদখল করে আসছেন এবং নিয়মিত ভূমি কর পরিশোধ করছেন।

অভিযোগ রয়েছে, পাশের জমির মালিক রানা মো. সোহেল ক্ষমতার প্রভাবে ওই জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। সম্প্রতি জমির চারপাশে প্রাচীর নির্মাণের সময় মহিপুর থানা পুলিশ সেখানে হস্তক্ষেপ করে নয়জন নির্মাণ শ্রমিককে আটক করে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে। পরে আদালত থেকে তারা জামিন পেয়ে প্রাচীর নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করেন।

সায়েদুর রহমানের ভাই রাশেদুল ইসলাম বলেন, “২১ এপ্রিল রাতে রানা মোঃ সোহেলের নেতৃত্বে ভেকু মেশিন দিয়ে প্রাচীরটি চুরমার করে দেন। তাৎক্ষণিকভাবে থানায় একাধিকবার ফোন করলেও ওসি মো. তারিকুল ইসলাম কোনো ব্যবস্থা নেননি বরং তার ভূমিকায় পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ রয়েছে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, রানা সোহেল ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহায়তায় জাল নামজারির মাধ্যমে একটি পর্চা (নম্বর ২৫২৫) তৈরি করান। পরবর্তীতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তদন্ত করে সেটি বাতিল করে দেন।

ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করে জানান, তারা প্রাণভয়ে আছেন এবং ভবিষ্যতে আরও ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।

এ ব্যাপারে রানা মোঃ সোহেল বলেন, ‘সায়েদুর রহমানের জমির মালিকানা দলিল সত্য তবে জমি এখানে নয়, অন্যত্র’। জমির সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলার ব্যাপারে জানতে চাইলে বলেন, ‘সায়েদুর রহমান আমার জমির মধ্যে সীমানা প্রাচীর করেছেন, তিনি আমার বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ দিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেটা করবে আমি মেনে নেব’।

বিষয়ে মহিপুর থানার ওসি (তদন্ত) অনিমেষ হালদার বলেন, “ওই এলাকায় বর্তমানে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪০ ও ১৪৫ ধারা জারি রয়েছে। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত কোনো পক্ষই সেখানে কোনো কার্যক্রম চালাতে পারবে না।