মা ও তিন বোনের হত্যার বিচার পাবে কি সিফাত? | Daily AjKaler Kontho

মা ও তিন বোনের হত্যার বিচার পাবে কি সিফাত?


জাকির হোসেন জুয়েল, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ১২:৪৪ অপরাহ্ন
মা ও তিন বোনের হত্যার বিচার পাবে কি সিফাত?

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও তিন বোনকে হারানোর পর ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য সিফাত। ২৫ জুন ২০২৬ সালের সেই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর কেটে গেছে ৮৪ দিন। কিন্তু এখনো প্রকাশ্যে আসেনি তদন্তের চূড়ান্ত ফল। একই ঘটনায় অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার গণপিটুনিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় করা পৃথক মামলাতেও এখনো কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ অবস্থায় নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—মা ও তিন বোনের হত্যার প্রকৃত রহস্য কি উদ্‌ঘাটন হবে? সিফাত কি তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার বিচার দেখতে পারবেন?

ঘটনার পর সিফাত বাদী হয়ে রায়পুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হয় বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, ওই হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত অন্তর মজুমদারকে স্থানীয়রা গণপিটুনি দিলে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায়ও পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পৃথক হত্যা মামলা করে।

চারজনের প্রাণহানির এই ঘটনায় তদন্তের জন্য চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তবে দীর্ঘ ৮৪ দিন পার হলেও সেই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসেনি। একই সঙ্গে সিফাতের দায়ের করা হত্যা মামলারও চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি।

তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে পুলিশের বক্তব্য

মামলার বর্তমান অবস্থা জানতে রায়পুর থানার এক উপপরিদর্শকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মা ও তিন মেয়েকে হত্যার ঘটনায় তদন্তে অন্তর মজুমদারকে একমাত্র অভিযুক্ত হিসেবে পাওয়া গেছে। তবে তিনি গণপিটুনিতে নিহত হওয়ায় মামলাটির তদন্ত শেষ হওয়ার পথে রয়েছে।

মামলায় থাকা অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিষয়ে জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে।

অন্তর মজুমদারকে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনায় করা পৃথক মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তদন্তে কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাঁকে আইনের আওতায় আনা হবে।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, দুটি মামলার তদন্তই চলমান রয়েছে।

চার প্রাণহানির পরও কাটেনি রহস্য

পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, মা ও তিন মেয়েকে হত্যার ঘটনায় তদন্তে অন্তর মজুমদারকে অভিযুক্ত হিসেবে পাওয়া গেছে। কিন্তু তাঁর গণপিটুনিতে মৃত্যুর পর মামলার তদন্ত কোন পর্যায়ে গিয়ে শেষ হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। বিশেষ করে মামলায় থাকা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফল এখনো প্রকাশ না হওয়ায় হত্যাকাণ্ডে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, সেটিও স্পষ্ট হয়নি।

অন্যদিকে, অন্তর মজুমদারকে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনায় কারা জড়িত ছিলেন, তাঁদের শনাক্ত করা হয়েছে কি না—সেই প্রশ্নেরও এখনো চূড়ান্ত উত্তর মেলেনি।

একই ঘটনায় চারজনের প্রাণহানি এবং দুটি পৃথক হত্যা মামলা হওয়ার পরও তদন্তের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ না পাওয়ায় নিহতদের স্বজনদের অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে।

মা ও তিন বোনকে হারিয়ে একা হয়ে যাওয়া সিফাতের কাছে এই অপেক্ষা শুধু একটি মামলার তদন্ত শেষ হওয়ার অপেক্ষা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা।

নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি, দুটি ঘটনার তদন্ত দ্রুত, নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গভাবে সম্পন্ন করে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনা হোক। একই সঙ্গে তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা হোক।

৮৪ দিন পরও তাই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—সিফাত কি তাঁর মা ও তিন বোনের হত্যার বিচার দেখতে পারবেন? আর গণপিটুনিতে নিহত অন্তর মজুমদারের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের কি শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে?

আজকালের কন্ঠ/আর বি