শোক হোক শক্তি

নিউজটি শেয়ার করুন

এইচ এম মেহেদী হাসান : বেদনামিশ্রিত ইতিহাসের ঘটনাবহুল মাস আগস্ট। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট, শ্রাবণের অন্তিম দিনে বৃষ্টি নয়, সেদিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বুক থেকে রক্তগোলাপের মতো রক্ত ঝরেছিল ঘাতকের বুলেটে।

যে মহামানবের জন্ম না হলে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্ম হতো না। সেই মহামানবের রক্তে রঞ্জিত হলো বাংলার মাটি, শিশিরবিন্দুর মতো ঘাসের ডগায় আজও রক্ত দেখা যায়, রক্তে ভেঝা শিক্ত মাটি আজও আমাদের হৃদয়ে নাড়া দেয়।

শেখ বোরহানউদ্দিন ও শেখ কুদরতুল্লাহর বংশধর হিসেবে পরিচিত শেখ লুৎফর রহমান ছিলেন একজন সেরেস্তাদার, যিনি ব্রিটিশ ভারতের গোপালগঞ্জ দেওয়ানি আদালতের নথি সংগ্রহের দায়িত্বে ছিলেন।

তাঁর পুত্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা। শেখ লুৎফর রহমান এবং সায়েরা খাতুন দম্পতির চার কন্যা এবং দুই পুত্রের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন তৃতীয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় বোনের নাম ফাতেমা বেগম, মেজো বোন আছিয়া বেগম, সেজো বোন হেলেন ও ছোট বোন লাইলী এবং তাঁর ছোট ভাইয়ের নাম শেখ আবু নাসের।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ১৭ মার্চ ১৯২০ বুধবার রাত আটটায় তৎকালীন ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার পাটগাতি ইউনিয়নের বাইগার নদী তীরবর্তী টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর নানা শেখ আবদুল মজিদ তাঁর নাম রাখেন শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর ছোটবেলার ডাকনাম ছিল ‘খোকা ‘। ছোটবেলা থেকেই তিনি মানুষের প্রতি সহমর্মী স্বভাবের অধিকারী ছিলেন। খোকা মুজিব শৈশবকাল থেকেই নেতৃত্বদানের অধিকারী ছিলেন।

তিনি ভারত বিভাজন আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন কিন্তু পাকিস্তান পূর্ব বাংলাকে শাসনের নামে শোষণ করে আসছিল, সত্যিকারার্থে সবকিছুইতে বিমাতাসুলভ আচরণ করতে থাকে।

বঙ্গবন্ধু এই বিষয়গুলো বহু আগে থেকেই আচ করতে পেড়েছিলেন এবং তিনি একটি মোক্ষম সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে ছিলেন। তিনি কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে অধ্যয়নরত অবস্হায় হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

দেশ বিভাজনের পরে তিনি ঢাকায় চলে আসেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন।

পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ন্যার্য দাবির পক্ষের আন্দোলনে তিনি সমর্থন দিয়ে সরাসরি আন্দোলনে অংশগ্রহণের অপরাধে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করে, তবে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ তাঁকে জরিমানা দিয়ে বহিষ্কার প্রত্যাহারের আহ্বান জানালে তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। বঙ্গবন্ধু কখনোই অন্যায়ের কাছে মাথানত করেননি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করার মধ্য দিয়ে আন্দোলন সংগ্রামের পথসুগম করতে অনেকটাই সচেষ্ট হয়েছিলেন।

ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠার মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তিনি কারাগারে থাকা অবস্হায় আওয়ামী লীগের যুগ্ন সম্পাদক নির্বাচিত হন। বঙ্গবন্ধুর সাহস, বাগ্মিতা, মেধা মনন, নেতৃত্বগুণ দ্রুতই এদেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেতে থাকে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই যে জাতি রাষ্ট্রের স্রষ্টা হবেন। সেটা আর এদেশের মানুষের বুঝতে তেমন বেগ পেতে হয়নি।

৫২-র ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তৈরিতে তরুণ শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। তিনি ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে মহান স্বাধীনতার বীজ বপন করতে সক্ষম হন।
পরবর্তীতে ‘৫৮-র সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন, ৬২-র শিক্ষা ও সংস্কৃতি আন্দোলন, ৬৬-র ঐতিহাসিক ৬-দফা যা বাঙালির মুক্তির সনদ হিসেবে প্রণিধানযোগ্য।

৬৯-র গণঅভ্যুত্থান, ৭০-র সাধারণ নির্বাচন, ৭১-র ৭ই মার্চের ভাষণ এবং ৭১-র সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ সবই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বদানের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিল।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এদেশের মাটি ও মানুষের জন্য ৫৫ বছরের জীবনের মধ্যে ১৪ টি বছর অন্ধকার কারাগারে থাকতে হয়েছিল। তাঁকে অমানসিক নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছিল শুধুমাত্র মানুষের মৌলিক অধিকারের কথা বলতে গিয়ে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ নয় মাস শসস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ত্রিশ লাখ মানুষের তাজা রক্ত এবং আড়াই লাখ মা বোনের সম্ভ্রম হারানোর মধ্য দিয়ে কাঙ্খিত স্বাধীনতা আমরা পাই।

১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ বিজয় লাভ করলেও আমাদের পূর্ণাঙ্গ বিজয়ের উল্লাস করার সময় আসে ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ অর্থাৎ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে যুদ্ধবিদ্ধস্ত বাংলাদেশ পুনগঠনের কাজ পুরোদমে চলতে থাকে। দেশের অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে অত্যন্ত যুগোপযোগী একটি লিখিত সংবিধান দিতে সক্ষম হয়েছিলেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সবেমাত্র জন্ম নেয়ে বাংলাদেশের স্বীকৃতি দানে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। বঙ্গবন্ধু সরকারের পররাষ্ট্রনীতি ‘ সবার সাথে বন্ধুত্ব কারও সাথে বৈরিতা নয়’।

তিনিই প্রথম জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দিয়ে বাংলা ভাষাকে গৌরবের আসনে অধিষ্ঠিত করেন।
সমুদ্র আইনের ধারণা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছ থেকেই আসে। আর বঙ্গবন্ধুর দাবির প্রেক্ষিতেই জাতিসংঘ পরবর্তীতে সমুদ্র আইন প্রণয়ন করে।

আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টাও বঙ্গবন্ধু। তিনি বেতবুনিয়া ভূ-উপকেন্দ্র স্টেশন উদ্বোধন করার মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় পেয়েছিলেন আর সেই সময়ের মধ্যে তিনি বাংলাদেশকে স্বপ্লোন্নত দেশের পরিণত করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালে স্বাধীনতা বিরোধীচক্র জাতির পিতাকে সহপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে। ঘাতকরা সেই ভয়াল রাতে জাতির পিতার সঙ্গে তাঁর সহধর্মিণী, মহীয়সী নারী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবকেও হত্যা করে। খুনিদের বুলেটের আঘাতে প্রাণহারান তাঁদের জ্যেষ্ঠ পুত্র বীর রমুক্তিযোদ্ধা কর্ণেল শেখ কামাল, বীর রমুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ জামাল এবং তাঁদের শিশু পুত্র শেখ রাসেল।

ভয়াল কালো রাতে সেইদিন ঘাতকের বুলেটে আরও প্রাণ হারান বঙ্গবন্ধুর ছোট ভাই
শেখ আবু নাসের।

শেখ কামালের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ক্রীড়াবিদ সুলতানা কামাল খুকু।
শেখ জামালের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী পারভীন জামাল রোজী।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মেজো বোন আছিয়ার ছেলে যুবনেতা শেখ ফজলুল হক মণি।
শেখ ফজলুল হক মণির অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বেগম আরজু মনি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সেজো বোন হেলেনের স্বামী আবদুর রব সেরনিয়াবাত। আবদুর রব সেরনিয়াবাতের ছোট মেয়ে বেবী সেরনিয়াবাত।

আবদুর রব সেরনিয়াবাতের নাতি সুকান্ত আবদুল্লাহ। আবদুর রব সেরনিয়াবাতের ভাইয়ের ছেলে শহীদ সেরনিয়াবাত।

আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা আমির হোসেন আমুর খালাতো ভাই আবদুল নঈম খান রিন্টু। বঙ্গবন্ধুর প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্ণেল জামিল উদ্দিন আহমেদ।

খুনিরা কি শুধুমাত্র ক্ষমতার জন্য জাতির পিতাকে সহপরিবারে হত্যা করেছিল..? তা কিন্তু নয় খুনিদের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশকে আবার পাকিস্তানের ভাবধারায় ফিরিয়ে নেওয়া, মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের পরিপন্থী একটি রাষ্ট্র তৈরি করা এবং সাম্প্রদায়িক শক্তির যোগান দেওয়া।

১৫ আগস্ট হত্যাকান্ড পৃথিবী সমস্ত নিষ্ঠুরতাকে ছাড়িয়ে গেছে। কারবালার বিয়োগাত্মক মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিকে হার মানিয়েছে ১৫ আগস্ট ১৯৭৫।

ঘাতকের গুলিতে ১০ বছরের শিশু শেখ রাসেলের চোখ ও মাথার মগজ বেরিয়ে যায়। বঙ্গবন্ধুর ছোট ভাই শেখ আবু নাসের পানি পানি বলে আকুতি জানালে তাকে বাতরুমে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে। শেখ রাসেল ‘ মায়ের কাছে যাব’ বলে কান্নাকাটি করলে একজন নরঘাতক তাকে মায়ের কাছে নিয়ে যেতে বলে। অতঃপর শিশু রাসেলকে দোতলায় নিয়ে গুলি করে হত্যা করে। যে ঘাতক রাসেলকে মায়ের কাছে নিতে বলেছিল সেই ঘাতকই কিছুক্ষণ আগে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবকে হত্যা করে এসেছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবার আমৃত্যু ত্যাগ নির্ভীকতার সঙ্গে মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন।
এই নৃশংস হত্যাকান্ডের সময় বঙ্গবন্ধু পরিবারের কেউ খুনীদের কাছে প্রাণভিক্ষা চাননি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিণী মহীয়সী নারী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব সিঁড়িতে বঙ্গবন্ধুর লাশ পড়ে থাকতে দেখে খুনিদের বলেছিলেন ‘ তোমরা এখানেই আমাকে মেরে ফেল’।

ইতিহাসের নিকৃষ্টতম কালো আইন ইনডেমনিটি জারি করে খুনিরা। জাতির পিতার হত্যাকান্ডের যেনো কোনদিন বিচার না হয় সেই জন্য খুনি মোশতাক ও খুনি জিয়া সব ধরণের চেষ্টা করেছিল।
জাতির পিতাকে সহপরিবারে হত্যার মাধ্যমে জনগণের নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের খেলা শুরু হয়।

খুনী মোশতাক নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করে, ২০ আগস্ট ১৯৭৫ মার্শাল ল’ জারি করা হয়।
২৫ আগস্ট ১৯৭৫ আরেক খুনী জিয়াউর রহমানকে চীফ অব আর্মি স্টাফ নিযুক্ত করে। ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৭৫ দিনটি ছিল শুক্রবার, অবৈধ ও স্বঘোষিত রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদ ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ ৫০/১৯৭৫ জারি করে।

অধ্যাদেশটিতে দু’টি ভাগ রয়েছে, প্রথম অংশে বলা হয়েছে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরে বলবত আইনের পরিপন্থী যা কিছুই ঘটুকনা কেন, এ ব্যাপারে সুপ্রীম কোর্টসহ কোন আদালতে মামলা, অভিযোগ দায়ের বা কোন আইনী প্রক্রিয়ায় যাওয়া যাবেনা।
দ্বিতীয় অংশে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি উল্লিখিত ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে যাদের প্রত্যয়ন করবেন তাদের দায়মুক্তি দেয়া হলো।

৩ নভেম্বর ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠসহচর, জাতীয় চার নেতাকে কারাগারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

জেনারেল খুনী জিয়াউর রহমান নিজেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ঘোষণা দেয়। সে সময় অস্হায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন প্রধান বিচারপতি সায়েম।
জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালের ২২ এপ্রিল অস্ত্রের মাধ্যমে বিচারপতি সায়েমকে সরিয়ে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে।

‘ At Bangabandhu, Last phase ‘ গ্রন্থে জাস্টিস সায়েম এ প্রসঙ্গে বিস্তারিত বলেছেন।
অতঃপর জিয়া সামরিক ফরমান জারি করে সংবিধান ও সেনা আইন লঙ্ঘন করে ১৯৭৭ সালের ৩০ মে হ্যাঁ না গণভোটের আয়োজন করে এবং ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকান্ডের সবচেয়ে বড় বেনিফিশিয়ারি জিয়া যার প্রমাণ জিয়া নিজেই দিয়ে গেছে ১৯৭৯ সালে সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স সংযুক্ত করে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সুরক্ষা দেয়।

জিয়া জাতির পিতার ঘাতকদের বিচারে সোপর্দ না করে রাষ্ট্রীয়ভাবে পুরস্কৃত করে।
জিয়া কতৃক পুরস্কৃত ও পুনবার্সিত হওয়ার ফলে জাতির পিতার খুনিরা সদম্ভে খুনের কথা স্বীকার করে বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাক্ষাতকার দেয়।

২৬ আগস্ট ১৯৭৬ সালে খুনী ফারুক ‘৭৫-এর আগস্টের হত্যাকান্ডের ব্যাপারে সানডে টাইমস পত্রিকার ১১ নং পৃষ্ঠায় একটি বিবৃতি প্রদান করে, যার শিরোনাম ‘ I helped to kill Mujib, dare you put me on trail. ‘

বিশ্বখ্যাত সাংবাদিক এন্থনি মাসকারেন হাসের কাছে সাক্ষাতকারে খুনী ফারুক ও রশিদ বলেছে, একজন ১৯৭৫ সালের মার্চ মাসে আরেকজন হত্যাকান্ডের দুই দিন আগে অর্থাৎ ১৩ আগস্ট জিয়ার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকান্ডের তদন্তে যুক্তরাজ্যে যে অনুসন্ধান কমিশন গঠিত হয়েছিল তার সদস্য ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এমপি জেফরি টমাস ও তার সহকারীকে ১৯৮১ সালে বাংলাদেশে আসতে বাধা দিয়েছিল জিয়াউর রহমান।

পশ্চিম জার্মানি থাকায় বেঁচে যাওয়া জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে আশ্রয় দেয়ার কারণে জার্মানে নিযুক্ত তৎকালীন রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীকে ওএসডি করেছিল।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পর তাঁর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে দেশে আসতে দেয়নি খুনি জিয়াউর রহমান।

বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানার মেয়াদ উত্তীর্ণ পাসপোর্ট যাতে নবায়ন না করে তার জন্য লন্ডন দূতাবাসকে অফিসিয়ালি নির্দেশ দেয়া হয়।

বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনার পাসপোর্ট নবায়ন করায় ভারতে নিযুক্ত সেই সময়ের রাষ্ট্রদূতকে চাকরিচ্যুত করে।

৩১ ডিসেম্বর ১৯৭৫ দালাল আইন বাতিল করে ( যা বঙ্গবন্ধু সরকার প্রণয়ন করেছিল)
কারাগারে আটক ও দন্ডিত সকল যুদ্ধাপরাধীকে ছেড়ে দেয়।

‘ ৭৬ সেকেন্ড প্রক্লেমেশন অর্ডার নং ৩/১৯৭৬ জারি করে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি করার লক্ষ্যে সংবিধানের ১২২ অনুচ্ছেদ তুলে দিয়ে দালালদের ভোটার হওয়ার সুযোগ দেয়।

প্রক্লেমেশন অর্ডার নম্বর -ক ১/১৯৭৭ জারি করে দালালদের সংসদে নির্বাচিত হওয়ার লক্ষ্যে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের কিছু অংশ তুলে দেয়।

প্রক্লেমেশন অর্ডার নং ১/১৯৭৭ দ্বারা সংবিধানের ১২নং অনুচ্ছেদ তুলে দিয়ে দালালদের রাজনীতি করার সুযোগ দেয়।

রাজাকারের শিরোমণি শাহ আজিজকে প্রধানমন্ত্রী এবং রাজাকার আলীমকে মন্ত্রী বানায় খুনি জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার।

শহীদ পরিবারের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে সকল বাড়ি বরাদ্দ করেছিলেন। জিয়া জোরপূর্বক ওই সব বাড়ি থেকে শহীদ পরিবারের সদস্যদের উৎখাত করে রাজাকারের সন্তানদের নামে বরাদ্দ দেয়।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালের ১৮ এপ্রিল গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযম গংয়ের নাগরিকত্ব বাতিল করেন।

অথচ জিয়া ১৯৭৮ সালে গোলাম আযমকে দেশে ফিরিয়ে আনে। জিয়া ১৯৭৭ সালে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর রমুক্তিযোদ্ধা অফিসার ও সৈনিকদের বেছে বেছে হত্যা করে।প্রতিরাতে কার্ফু দিয়ে মানুষ হত্যা ছিল জিয়ার কাছে খুবই সামান্য বিষয়।

খুনি জিয়া মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামে জাতির পিতার নেতৃত্বের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস নিষিদ্ধ করে রেখেছিল। খুনি জিয়াউর রহমান ও খুনি মোশতাক আহমেদ খন্দকার জাতির পিতাকে হত্যা করার মধ্য দিয়ে পুরো বাংলাদেশকে হত্যা করে। ত্রিশ লাখ শহীদ ও আড়াই লাখ মা বোনের সম্ভ্রম হারানোর প্রিয় বাংলাদেশকে কবর বানিয়ে রাখে।

অবৈধ শাসক খুনি জিয়াউর রহমানের স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও একই ধারা বজায় রাখে। বিএনপি ৯১ সালে ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধুর সকল হত্যাকারীকে পদোন্নতি দেয়।

৭৫’-এর খুনিদের সাহসের প্রতীক হিসেবে বেগম জিয়া মিথ্যা জন্মদিন পালন করে আসছে ১৫ আগস্ট।
বেগম খালেদা জিয়ার মেট্রিক পরীক্ষার ফরমে জন্মতারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৪৬ সাল। আবার তার বিবাহ সনদে জন্মের তারিখ উল্লেখ আছে ৫ আগস্ট ১৯৪৪ সাল।

১৯৯১ সালে তিনি যখন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তখন সরকারি নথিতে তার জন্মতারিখ ১৯ আগস্ট ১৯৪৭ সাল।

আর বর্তমানে যে পাসপোর্ট তিনি ব্যবহার করছেন সেখানে তার জন্মতারিখ ৫ আগস্ট ১৯৪৬ সাল।
এবং অতিসম্প্রতি তিনি যে করোনার টেস্ট করেছেন, সেখানে তার জন্মের তারিখ উল্লেখ আছে ৮ মে ১৯৪৬ সাল।

একটি মানুষের কতটি জন্মতারিখ থাকে..?

৯৩ সাল থেকে বেগম জিয়া ১৫ আগস্টের বেদনাবিধূর দিনে মিথ্যা জন্মদিন পালন করে, কেক কাটে, এই বর্বরতম কাজ করে খালেদা জিয়া মূলত বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের বুকে ছুরি চালায়।
১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি রশিদ এবং হুদাকে এমপি বানায় বেগম জিয়া।

খুনী রশিদকে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা বানিয়ে সংসদকে কলুষিত করে বেগম জিয়া।
অবৈধ শাসক খুনী জিয়াউর রহমান যে শুধুমাত্র জীবিত থাকাকালীন বাংলাদেশটাকে দখল করে, লুঠপাট করে খেতে চেয়েছিল তা কিন্তু নয়, মৃত্যুর পরেও জিয়া দখলদারিত্ব করে আছে রাজধানী ঢাকা শহরের প্রাণকেন্দ্র চন্দ্রিমা উদ্যানের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গার ৭৪ একর। জাতীয় সংসদ ভবনের স্হপতি লুই আই কানের নকশা অনুযায়ী এখানে স্হাপনা করা ঠিক হয়নি। অথচ বিএনপি জিয়ার ভুয়া কবর তৈরি করে জাতির সাথে তামাশা করেছে।

জিয়া ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে চট্রগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর কিছু সদস্যের হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। কথিত আছে প্রেসিডেন্ট জিয়াকে ব্রাশফায়ার করে হত্যার পর একজন সৈনিক পেট্রোল জ্বালিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করে এবং তার দেহ ছাই হয়ে যায়।

চট্রগ্রাম শহর থেকে ১৭ মাইল দূরে রাঙ্গুনিয়া ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের পাশে পাহাড়ের ঢালুতে যাকে দাফন করা হয়েছিল, সেখানে প্রেসিডেন্ট জিয়ার কোন লাশ ছিল না। ছিল সেনাবাহিনীর অন্য কোন সদস্যের লাশ, যারা সার্কিট হাউসের গোলাগুলিতে নিহত হয়েছিল।

সুতরাং ১ লা জুন যে লাশ ঢাকায় আনা হয়, সেটা প্রেসিডেন্ট জিয়ার কোনো লাশ ছিল না। কারণ হিসেবে বলা চলে সেনাবাহিনীর পোশাক পরিহিত লাশ ঢাকায় আনা হয়েছিল রাঙ্গুনিয়া থেকে।
একজন প্রেসিডেন্ট কি করে রাতে সেনাবাহিনীর পোশাক পরে ঘুমিয়েছিলন? তিনি তখন প্রেসিডেন্ট তিনি কোন মতেই সেনাবাহিনীর পোশাক পরে ঘুমাননি।আর যখন প্রেসিডেন্ট জিয়াকে হত্যা করা তখন ভোররাত।

সুতরাং যেখানে প্রেসিডেন্ট জিয়ার লাশ কেউ দেখেননি। এমনকি জিয়ার পরিবারও দেখেননি। অথচ চন্দ্রিমা উদ্যানের ৭৪ একর জায়গা দখল করে তৈরি করা হয়েছে জিয়ার মাজার।

একটি লাশের যে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করতে হয় এবং সরকারি নির্দেশনা পালন করা হয় তার কিছুই করা হয়নি প্রেসিডেন্ট জিয়ার ক্ষেত্রে।

অন্যদিকে চট্রগ্রামের সার্কিট হাউস আজও জিয়া দখল করে আছে। জিয়া যেখানে নিহত হয়েছে সেখানকার সরকারি সার্কিট হাউস দখল করে বানানো হয়েছে জিয়ার জাদুঘর।জিয়া মরেও বাংলাদেশের সম্পদ অবৈধভাবে দখল করে আছে।

অথচ যিনি এই বাংলাদেশের জন্মদাতা তিনি ঘুমিয়ে আছেন তাঁর জন্ম,বেড়ে ওঠার পূণ্যভূমি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়।তাঁর আজীবনের সঙ্গী মহীয়সী নারী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ, তাঁর সন্তানদের কবর বনানীতে।জাতির পিতার সঙ্গে যাঁরা জীবন দিয়েছেন তাঁদের কবরও বনানী কবরস্থানে। অনেকের কবর চিহ্নিত করাও কষ্টসাধ্য।

অথচ খুনি, দখলদার, পাকিস্তানের চর, জিয়ার ভুয়া কবর রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়! প্রয়োজনে ডিএনএ টেস্ট করা হোক। নতুন প্রজন্ম আর মিথ্যা, বিকৃত ইতিহাস পাঠ করতে চায়না। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে সাধারণ মানুষ এই দাবি করতেই পারে। কারণ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই এই দেশের জন্ম।

অবৈধ শাসক জিয়াউর রহমানের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালের ১৭ মে মৃত্যুকে হাতের মুঠেয় নিয়ে পাহাড়সম দুঃখ- বেদনা নিয়ে বাঙালি জাতির ভোট ও ভাতের অধিকার ফিরিয়ে দিতে এবং অবরুদ্ধ গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে পিতা মুজিবের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে তিনি বাংলার মাটিতে পা রেখেছিলেন।

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দীর্ঘ ২১ বছরের লড়াই সংগ্রাম শেষে, ১৯৯৬ সালে তাঁরই নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়।

১৯৯৬ সালের ১৪ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার তিন প্রধান আসামি লে. কর্নেল সৈয়দ ফারুক,সুলতান শাহরিয়ার রশিদ ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী তাহের উদ্দিন ঠাকুরকে গ্রেফতার করা হয়।

একই বছরের ২ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুর একান্ত সহকারী (পিএ) এ এফ এম মোহিতুল ইসলাম ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সংঘটিত নারকীয় হত্যাকান্ডের ঘটনায় একটি এফ আই আর করেন।

১৯৯৬ সালের ১৪ নভেম্বর খুনিদের বিচারের হাতে ন্যাস্ত করতে পার্লামেন্টে ইনডেমনিটি আইন বাতিল করা হয়।

১৯৯৭ সালের ১৫ জানুয়ারি সিআইডি এই মামলায় ২০ জনকে অভিযুক্ত করে মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে চার্জশিট দাখিল করে এবং একই বছরের ১২ মার্চ ছয় আসামির উপস্হিতিতে আদালতে বিচার শুরু হয়।

১৯৯৭ সালের ১৯ জুন পর্যন্ত বিচারক বিব্রত হওয়াসহ নানা কারণে আটবার বিচার কার্যক্রম স্হগিত হয়ে যায়।
এভাবে দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর মামলার রায়ে বিচারক কাজী গোলাম রসুল ১৫ জন সাবেক সেনাকর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন।

অন্যদিকে ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বেঞ্চে ২৪ দিনের শুনানি শেষে বিভক্ত রায় প্রদান করে।
বিচারক এম রুহুল আমিন অভিযুক্ত ১৫ আসামির মধ্যে ১০ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখেন এবং
অপর বিচারক এ বি এম খায়রুল হক অভিযুক্ত ১৫ জনকেই সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন।
পরে হাইকোর্টের তৃতীয় বেঞ্চে ১২ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে।

পরবর্তীতে ২০০১ সালের অক্টোবরের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় এলে বিচার কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

দীর্ঘ ছয় বছর পর ২০০৭ সালের ২৩ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের মুখ্য আইনজীবী বর্তমান সরকারের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সুপ্রিম কোর্টে সংক্ষিপ্ত বিবৃতি প্রদান করেন এবং ২৩ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ ২৭ দিনের শুনানি শেষে ৫ আসামিকে নিয়মতি আপিল করার অনুমতিদানেে লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন।

২০০৯ সালের ১২ নভেম্বর ২৯ দিনের শুনানির পর চূড়ান্ত আপিল শুনানি শেষ হয় এবং আদালত ১৯ নভেম্বর রায়ের তারিখ নির্ধারণ করেন। ওইদিন ( ১৯ নভেম্বর) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৫ আসামির দায়ের করা আপিল আবেদন খারিজ করা হয়।

২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি আপিলের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের রিভিউ খারিজ হয়ে গেলে ২৮ জানুয়ারি ৫ আসামির ফাঁসির রায় কার্যকর করে জাতিকে দায়মুক্ত করা হয়।অবসান হয় দীর্ঘ ৩৫ বছরের অপেক্ষা।

জাতির পিতার হত্যার বিচারের জন্য বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘ ৩৫ বছর। পৃথিবীর ইতিহাসে এটাই মনে হয় এতো দীর্ঘ সময় পরে একজন জাতি রাষ্ট্রের মহান স্রষ্টার হত্যাকারীদের বিচারকার্য সম্পন্ন করার দীর্ঘ সময়।

বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা বিদেশে পলাতক বঙ্গবন্ধুর বাকি খুনিদের দ্রুতই দেশে এনে আদালতের রায় কার্যকর করা হোক।

শোক হোক শক্তি। সমন্ত ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। পিতা মুজিবের দেখানো পথে হাটছে দেশ, রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বের বাংলাদেশ।

এইচ এম মেহেদী হাসান
লেখক, কলামিস্ট, সাংবাদিক ও
সাবেক সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »