সোমবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২১ । ৫ মাঘ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

জানুয়ারিতেই টিকার প্রয়োগ

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আজকালের কন্ঠ ডেস্ক : জানুয়ারির শেষদিকে আসছে করোনার টিকা। প্রথম ধাপে অর্ধকোটি মানুষকে টিকার আওতায় আনা হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় টিকা প্রয়োগের জন্য একটি গাইডলাইনও তৈরি করা হয়েছে। সে লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়েছে। টিকা প্রাপ্তির নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করতে তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, ঢাকা জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মিলে একটি ডিজিটাল অ্যাপ বানিয়েছে। সেটি আগামী ২৬ জানুয়ারি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে। যেখানে ব্যক্তি নিজেই নিজের তথ্য দিয়ে করোনার প্রতিষেধক ভ্যাকসিন পেতে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন।

এজন্য লাগবে জাতীয় পরিচয়পত্র।

আগামী ২১ থেকে ২৬ জানুয়ারির মধ্যে দেশে টিকা চলে আসবে। এরপর নিবন্ধনকারীর তথ্য পর্যালোচনা করে ধাপে ধাপে সারা দেশে প্রয়োগ করা হবে। টিকা আসার পর দুদিন বেক্সিমকোর ওয়্যার হাউসে থাকবে টিকা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চাহিদাপত্রের আলোকে সেখান থেকে সরবরাহ করা হবে। চলতি মাসের শেষদিকে রাজধানীর দুটি প্রতিষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে টিকা প্রদান কর্মসূচি উদ্বোধন করতে চায় সরকার।

এ লক্ষ্যে পছন্দের জায়গা খোঁজা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলেও শোনা যাচ্ছে। তবে অনলাইন নিবন্ধন ছাড়া কাউকে টিকা দেয়া হবে না। সেইসাথে ১৮ বছরের কম বয়সি অপ্রাপ্তবয়স্ক ও গর্ভবতী নারীরা টিকা প্রদানের আওতার বাইরে থাকবেন। কারণ অক্সফোর্ডের টিকা এই দুই শ্রেণির ওপর ট্রায়াল করা হয়নি। এতে দেশের প্রায় পাঁচ কোটির বেশি নাগরিক টিকা প্রয়োগের বাইরে থাকবেন। এর বাইরে গ্যাভি বাংলাদেশকে মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ছয় কোটি ৮০ লাখ ডোজ টিকা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

গতকাল সোমবার বিকালে রাজধানীর মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কনফারেন্স রুমে টিকা বিষয়ে সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার খোরশীদ আলম বলেন, ‘২১ থেকে ২৫ জানুয়ারির মধ্যে যেকোনো সময় করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন দেশে পৌঁছবে। টিকা আসার পর দুদিন ওয়ার হাউসে রাখা হবে। এরপর আমরা তালিকা দিলে সেই অনুযায়ী বণ্টন করা হবে। প্রথম ধাপের টিকার ৫০ লাখ ডোজ ৫০ লাখ মানুষকে দেয়া হবে। কারণ দ্বিতীয় ডোজ দেয়ার সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। আগে যেখানে ২৮ দিন পর দেয়ার কথা বলা হয়েছিল, এখন বলা হয়েছে আট সপ্তাহ তথা দুমাস পরে দ্বিতীয় ডোজ দিতে হবে। এজন্য আমরা প্রথম ধাপেই ৫০ লাখ টিকা ৫০ লাখ মানুষকে দিতে পারবো। টিকা সরবরাহ ও বিতরণ এবং সংরক্ষণ নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত করা হবে।’

তিনি বলেন, জনগণ সরাসরি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে করোনার প্রতিষেধক পেতে নিবন্ধন করতে পারবেন। ইউনিয়নপর্যায়ে এ নিয়ে কাজ করা হবে। জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে অনলাইন নিবন্ধন সম্পাদন করতে হবে। নিবন্ধন ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে টিকা দেয়া হবে না। নিবন্ধন করতে সর্বোচ্চ পাঁচ মিনিট সময় লাগবে। অনলাইন নিবন্ধন কার্যক্রম ২৬ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে। এক্ষেত্রে বিধবা বা বয়স্কভাতা পান এমন তালিকাও সংগ্রহ করে দেখা হবে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বাদ পড়ার কোনো শঙ্কা নেই। টিকা দেয়ার আগে নিবন্ধন করার জন্য সারা দেশে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হবে।

ডা. খুরশীদ আলম বলেন, নিরক্ষরদের জন্যও আমাদের ব্যবস্থা থাকবে। তারা ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে নিবন্ধন করতে পারবেন। গ্রামপর্যায়ে এখন ডিজিটাল সেবা কার্যক্রম চলে গেছে। এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদ আমাদের সহযোগিতা করতে পারবে।

মহাপরিচালক বলেন, গত ৬ জানুয়ারি কোভ্যাক্স আমাদের ফাইজারের টিকা বিষয়ে চিঠি পাঠায়। ১৮ জানুয়ারি নাগাদ এর উত্তর দেয়া হতে পারে। তবে এই টিকা সংরক্ষণ বেশ চ্যালেঞ্জিং। মাইনাস সাত ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হয়। বাংলাদেশে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, আইইডিসিআর, আইসিডিডিআরবিতে মাইনাস সাত ডিগ্রি তাপমাত্রায় টিকা রাখা যায় এমন রেফ্রিজারেটর আছে। এছাড়া এই টিকা ধাপে ধাপে দেশে আসবে। আশা করছি টিকা সংরক্ষণে কোনো ধরনের সমস্যা হবে না। সেইসঙ্গে এই টিকা সংরক্ষণ ও বিতরণের জন্য বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশকে মোট জনসংখ্যার শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ মানুষের জন্য এ টিকা দেয়ার পরিকল্পনা আছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, টিকা প্রদান কার্যক্রম চালু হওয়ার পূর্বেই আমরা কুইক রেসপন্স টিম প্রস্তুত করছি। টিকা গ্রহণের পর কারো শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে দ্রুত তাদের পর্যবেক্ষণ ও সেবা প্রদানের লক্ষ্যে এ টিম গঠন করা হয়েছে।

আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনে খুবই মাইনর প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। শতকরা হিসেবে মাত্র দুই থেকে তিন শতাংশ ব্যক্তির শরীরে খুবই সামান্য মাথাব্যথা, মাথা ঘুরায় কিংবা জ্বরজ্বর ভাব হয়। এ নিয়ে ভয়ের কিছুই নেই।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, ভ্যাকসিন নিয়ে চারদিকে বিভিন্ন ধরনের মনগড়া কথা রয়েছে। আজ আমরা সেগুলো পরিষ্কার করতে চাই। ভ্যাকসিন আঠারো বছরের কম বয়সি ও গর্ভবতী নারীদের ওপর ট্রায়াল দেয়া হয়নি। তাই আমরাও তাদের দেহে প্রয়োগ থেকে বিরত থাকবো।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বাস্থ্যবিষয়ক পরিচালক ড. মো. শামসুল হক বলেন, বিদেশ থেকে টিকা আমদানি থেকে প্রান্তিকে পৌঁছানো পর্যন্ত সর্বত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমাদের সহায়তা করবে। এজন্য আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। প্রথমদিকে শুধু বয়স্ক ও ফ্রন্টলাইনারদের অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।

আজকালের কন্ঠ /এম

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »