সোমবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২১ । ১২ মাঘ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শরীয়তপুর পৌরসভা নির্বাচন, পারভেজ রহমানের পথসভা হয়ে যায় জনসভা

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শরীয়তপুর প্রতিনিধি : যদি শোনে মার্কা নৌকা, যদি শোনে আসবে আওয়ামীলীগের জন্য শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডঃ হাবিবুর রহমানের ছেলে আওয়ামীলীগ ও জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মনোনীত নৌকার পদপ্রার্থী এ্যাডঃ পারভেজ রহমান জন তখন পথসভায় রুপান্তর হয়ে যায় জনসভায়। প্রতিক পাওয়ার পর থেকে প্রতিদিনেরনেয় শরীয়তপুর পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী এ্যাডঃ পারভেজ রহমান জন পৌরসভার ৯ টি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে নির্বাচনি পথসভায় ও উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়। প্রতিটি পথসভায় ও উঠান বৈঠকে নৌকার প্রার্থী এ্যাডঃ পারভেজ রহমান জন উপস্থিত হলেই মুহুর্তের মধ্যেই নামে জনতার ঢল হয়ে যায় জনসভায় রুপান্তর।

উৎসুক জনতার এক কথা, তারা তাদের ঘরের ছেলে দলের জন্য শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডঃ হাবিবুর রহমানের ছেলে ও শহীদ মনির হোসেন মুন্সীর ভাতিজা এ্যাডঃ পারভেজ রহমান জন এর কথা শুনতে ও তাকে একনজর দেখতে এসেছে। এ সময় অনেককেই ঠেলাঠেলি করে সভাস্থলে হাজির হতে দেখা যায় ।

এসময় পারভেজ রহমান জন তার বিভিন্ন পথসভায় বক্তব্যে বলেন, আমি বাবা-মা হারা এই শহরের এক এতিম সন্তান পারভেজ রহমান জন ।
শহীদ এ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ডাকে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
আপনারা জানেন, ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন লাভ করেছিলেন মোবারক আলী শিকদার। প্রতিদ্বন্দি প্রার্থী হিসেবে অংশ গ্রহন করেন হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গ। ১ অক্টোবর ভোট গ্রহন করা হয়। নির্বাচনে ব্যাপক হানাহানি ও রক্তপাত হয়। এভাবে জাজিরা উপজেলায় ১১টি কেন্দ্র এবং সদর উপজেলার ১টি কেন্দ্রে সহিংসতার কারনে মোট ১২টি কেন্দ্রে নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত করা হয়। ৮ অক্টোবর সোমবার স্থগিত থাকা কেন্দ্রে পূনরায় ভোট গ্রহনের তারিখ ঘোষনা করা হয়। ৫ অক্টোবর শুক্রবার শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগ নৌকার বিজয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমাদের বাসায় জরুরী সভা আহবান করেন। ৫ অক্টোবর শুক্রবার বিকেল ৫ টা নাগাদ যথারীতি আমাদের বসত ঘরে সভা শুরু হয়। ঠিক সেই সময় বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে আওরঙ্গের নির্দেশে তার সন্ত্রাসী বাহিনী চতুর্দিক থেকে স্বশস্ত্র হামলা করে আমাদের বসত ঘরের মধ্য আমাদের চোখের সামনে আমার বাবা হাবিবুর রহমান এবং চাচা মনির মুন্সিকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে। সেদিন দলীয় আরো অনেক নেতা-কর্মীরা গুলিবিদ্ধ হন। আমার বাবা এবং চাচার কোন অপরাধ ছিলনা।

শুধুমাত্র নৌকার জয় নিশ্চিত করার জন্য এবং আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করতে গিয়ে আমার বাবা ও চাচা প্রকাশ্য দিবালোকে আমাদের চোখের সামনে শহীদ হয়েছিলেন। আমার বাবা এবং চাচাকে হত্যা করার পরে জননেত্রী শেখ হাসিনা এসেছিলেন আমাদের বাড়িতে সান্তনা দেয়ার জন্য। সেদিন এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারনা হয়েছিল শরীয়তপুরে। শেখ হাসিনা সেদিন কথা দিয়েছিলেন, যে নৌকার সম্মান রক্ষা করতে গিয়ে এ্যাড. হাবিবুর রহমান ও তার ভাই রক্ত দিয়েছেন, সেই রক্তের ঋণ কিছুটা হলেও শোধ করবেন। তিনি তাঁর কথা রেখেছেন।

আমার পিতার শহীদ হওয়ার ১৯ বছর পর নৌকা প্রতীক দিয়ে শরীয়তপুর পৌরবাসীর কাছে মমতাময়ী জননীতুল্য শেখ হাসিনা আমাকে পাঠিয়েছেন। আমার মা- বাবা নেই আমি আপনাদের সন্তান আমাকে নৌকা মার্কায় ১৬ জানুয়ারী আপনাদের মূল্যমান ভোট দিয়ে বিজয় করুন। আপনার জানেন নৌকায় ভোট দিলে বাংলাদেশের উন্নয়ন হয়।

এসময় বিভিন্ন পথসভা ও উঠান বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছাবেদুর রহমান খোকা সিকদার, সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র আব্দুর রব মুন্সি, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে, সহসভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল হাসেম দফাদার, পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম কোতোয়াল,সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান উজ্জ্বল, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ এ্যাডঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ গোলাম মোস্তফা, পৌরসভা আওয়ামীলীগের সভাপতি এমএম জাহাঙ্গীর, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আমির হোসেন খান, জেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক সরদার, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক আলি আজম মাদবর, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সহসভাপতি ফাহাদ হোসেন তপু, জেলা যুবলীগ কর্মি জামাল মল্লিক, সুমন পাহাড় মতিউর রহমান মামুন, বোরহান মুন্সি, নিরু হাওলাদার, ফরিদ ঢালী, সমির দাস, শহর আলী ফকির, জসিম প্রমুখ।

আজকালের কন্ঠ / জামাল / এম

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »