সোমবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২১ । ১২ মাঘ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বিতর্কে উন্নয়নসহযোগীরা

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আজকালের কন্ঠ ডেস্ক : চলতি অর্থবছরের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিতর্কে নেমেছে উন্নয়নসহযোগীরা। বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ভিন্ন ভিন্ন পূর্বাভাস দিয়েছে। কোনো সংস্থারই প্রক্ষেপণ মিলছে না সরকারের সঙ্গে। কোভিড-১৯ মহামারির প্রেক্ষাপটে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ত্রৈমাসিক হালনাগাদ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য। এতে ‘গ্রোথ আউটলুক ফর সাউথ এশিয়ান কান্ট্রিজ’ শীর্ষক পূর্বাভাসে বাংলাদেশের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। চলতি অর্থবছর সরকারের লক্ষ্যমাত্রা ৮ দশমিক ২ শতাংশ থাকলেও চলমান করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় সেটি কমিয়ে ধরা হচ্ছে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেখানে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাংকের মতে চলতি অর্থবছর জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ১ দশমিক ৬ শতাংশ, যা গত অর্থবছরের সরকারি হিসাবে ছিল ৫ দশমিক ২৪। কিন্তু বিশ্বব্যাংক মনে করে ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ শতাংশ এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৮ দশমিক ১ শতাংশ। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী চলতি অর্থবছর প্রবৃদ্ধি হবে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। গত অর্থবছর প্রক্ষেপণ ছিল ৩ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ধরা হয় ৮ দশমিক ২ শতাংশ। এডিবির মতে, চলতি অর্থবছর প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। গত অর্থবছর ছিল ৫ দশমিক ২ শতাংশ এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরা হয় ৮ দশমিক ২ শতাংশ।

এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম শনিবার বলেন, দেশে দেশে প্রবৃদ্ধি বাড়িয়ে দারিদ্র্য কমানোর জন্য ঋণদানকারী সংস্থাগুলো প্রচেষ্টা চালায়। পূর্বাভাস দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা নিজস্ব মূল্যায়ন পদ্ধতি ব্যবহার করে। তাদের দক্ষতাও সব সংস্থার একরকম নয়। উন্নয়নসহযোগীরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অনুমান নির্ভর প্রক্ষেপণ করে থাকে। এটা গভীর কোনো বিষয় নয়। তারা চায় সিভিল সোসাইটির মধ্যে একটি বিতর্ক সৃষ্টি হোক। এর মধ্যদিয়ে সরকার যাতে সতর্ক হতে পারে এবং এ বিষয়ে বেশি নজর দিতে পারে। কোনো দেশের জন্য তাদের প্রক্ষেপণ অনুকরণীয় বা অনুসরণীয় নয়। শেষ পর্যন্ত সরকার যেটি হিসাব করে চূড়ান্ত বিচারে সেটি মেনে নিয়েই সংস্থাগুলো কাজ করে। এ ক্ষেত্রে কখনো সমালোচনা করার চেষ্টা করা হলেও সেটি শেষ পর্যন্ত আর থাকে না।

বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিতর্কের কিছু নেই। কেননা, একেক সংস্থা একেকভাবে হিসাব করে। তাছাড়া সংস্থাগুলো যখন পূর্বাভাস তৈরি করে তখন তারা নিজস্ব পদ্ধতিতে হিসাব করে। এটা হিসাব করতে গিয়ে অর্থনীতির কোন কোন সূচক ধরা হবে সেটি এক হয় না। অর্থাৎ অর্থনীতির গতি-প্রকৃতির মূল্যায়ন একক উন্নয়নসহযোগীর একেক রকম। এজন্যই আলাদা প্রক্ষেপণ হয়ে থাকে। তবে সরকার যখন হিসাব করে তখন সেটি ব্যবহার করা ছাড়া উপায় থাকে না। কেননা, এটা শিষ্টাচারের বিষয়। খুব বেশি ফারাক মনে হলে অভ্যন্তরীণভাবে সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে সেটি বলার চেষ্টা করা হয়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জিডিপি প্রবৃদ্ধি হিসাব করার ক্ষেত্রে সরকারের যেরকম সক্ষমতা ও ক্ষমতা আছে উন্নয়নসহযোগীদের সেটি নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে চলতি অর্থবছর ভারতের প্রবৃদ্ধি হবে বিশ্বব্যাংকের মতে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। মালদ্বীপের প্রবৃদ্ধি হবে সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৫ শতাংশ, পাকিস্তানের শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ, নেপালের শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ, শ্রীলংকার ৩ দশমিক ৩ শতাংশ, ভুটানের ১ দশমিক ৮ শতাংশ এবং আফগানিস্তানের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ২ দশমিক ৫ শতাংশ।

আইএমএফ-এর মতে, চলতি অর্থবছর ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ। পাকিস্তানের ১ শতাংশ। এছাড়া আফগানিস্তানের ৪ শতাংশ, ভুটানের মাইনাস শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ, মালদ্বীপের ১২ দশমিক ৭ শতাংশ, নেপালের ২ দশমিক ৫ শতাংশ এবং শ্রীলংকার জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ।

এডিবির মতে, চলতি অর্থবছর ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৮ শতাংশ। এ ছাড়া পাকিস্তানের ২ শতাংশ, শ্রীলংকার ৪ দশমিক ১ শতাংশ, নেপালের ১ দশমিক ৫ শতাংশ, মালদ্বীপের ১০ দশমিক ৫ শতাংশ, ভুটানের ১ দশমিক ৭ শতাংশ এবং আফগানিস্তানের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ১ দশমিক ৫ শতাংশ।

আজকালের কন্ঠ /এম

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »